![]()
মৌলভীবাজারের বর্ষিজোড়া ও পাহাড় বর্ষিজোড়া এলাকায় মাদক, চুরি ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ষিজোড়া ও পাহাড় বর্ষিজোড়া এলাকাবাসী এবং নতুন বাজার ব্যবসায়ী কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এমন এক সময়ে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হলো, যখন মৌলভীবাজার জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দের পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
![]()
চলতি বছরের আগস্টে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ শ্রীমঙ্গল সড়কে অভিযান চালিয়ে ৮ হাজার পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং একটি প্রাইভেটকার জব্দ করে। এ সময় তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবার চালান এনে মৌলভীবাজার সদরসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করত।
একই বছরের সেপ্টেম্বরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৪৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে একজনের বয়স ১৯ বছর। এ ছাড়া কুলাউড়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, জুড়ীতে ৪০০ গ্রাম গাঁজা ও ১৫টি গাঁজাগাছসহ একজনকে আটক করা হয়। এসব ঘটনা থেকে দেখা যায়, সীমান্তসংলগ্ন পথ ব্যবহার করে মাদকের চালান মৌলভীবাজারে প্রবেশ করছে এবং স্থানীয় বাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বর্ষিজোড়া এলাকার বাসিন্দাদের উদ্বেগেরও বাস্তব ভিত্তি রয়েছে।
উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নিজেই গত আগস্টে বড় ইয়াবার চালান জব্দের অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই অভিযান সম্পর্কে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংও করেছিলেন। ফলে প্রতিবাদ সভায় তাঁর উপস্থিতি প্রশাসনের প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযান ও স্থানীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র তৈরি করেছে।
৮ হাজার পিস ইয়াবা থেকে শুরু করে ৩৪৫ পিস ইয়াবা জব্দের ঘটনাগুলো মাদক ব্যবসার সক্রিয়তার চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে চুরি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলছে। বর্ষিজোড়াবাসীর এ প্রতিবাদ সভা থেকে প্রশাসনের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—স্থানীয় জনগণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানকে সমর্থন করে। তবে শুধু অভিযানই যথেষ্ট নয়। মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সীমান্তপথে মাদকের প্রবেশ বন্ধ, স্থানীয় বিক্রয় নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
জনগণ ও প্রশাসনের এই যৌথ অবস্থানকে ধারাবাহিক কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দেওয়া সম্ভব হলেই বর্ষিজোড়া ও পাহাড় বর্ষিজোড়ার পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।










