গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান কর্তৃক সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে প্রকাশ্যে ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার অনাকাঙ্ক্ষিত, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও অসহিষ্ণু ঘটনার তীব্র নিন্দা, গভীর উদ্বেগ ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার ফোরাম। একইসঙ্গে ফোরামের শীর্ষ নেতৃত্ব এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
![]()
জাতীয় মানবাধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান এইচ এম আব্দুর রাজ্জাক রাজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতা যেকোনো গণতান্ত্রিক ও মুক্ত সমাজের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ। রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে প্রকাশ্যে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার এই ঘটনা কেবল স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপই নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ। জাতীয় মানবাধিকার ফোরাম মনে করে, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন উসকানিমূলক আচরণ সংবাদকর্মীদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করে এবং সমাজে অপসংস্কৃতি ও অসহিষ্ণুতাকে উৎসাহিত করে, যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সংবাদপত্রের কোনো সংবাদের সাথে ভিন্নমত বা আপত্তি থাকলে তা নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগ উপায়ে সমাধানের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তা না করে এভাবে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার মলদ্বীনাত্মক কর্মকাণ্ড সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করার এক ধরনের পরোক্ষ হুমকি হিসেবেই বিবেচিত হয়। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের কাছে থেকে গণমাধ্যমের প্রতি আরও সহনশীল ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ কাম্য।
জাতীয় মানবাধিকার ফোরামের দাবিসমূহ:
অবিলম্বে এই অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
দেশের সকল গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের ভয়ভীতিহীন ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় মানবাধিকার ফোরাম দৃঢ়ভাবে মনে করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার কোনো অপচেষ্টা কখনোই সফল হবে না। একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মতো ঘটনা কেবল সাংবাদিকদের নয়, বরং সমগ্র জাতির বিবেককে আহত করে। এই ধরনের অসহিষ্ণু ও উসকানিমূলক আচরণের বিরুদ্ধে ফোরাম সর্বদা সোচ্চার থাকবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষায় তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে সংবাদমাধ্যমের প্রতি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে ফোরাম।











পাঠকের মন্তব্য