![]()
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির জয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের আশঙ্কায় বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে দেশটির শেয়ারবাজার। বৃহস্পতিবারের এই পতন গত প্রায় দুই বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ দরপতনের ঘটনা।
তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার নিয়ে গঠিত এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500) সূচক বৃহস্পতিবার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর এটিই সূচকটির সবচেয়ে বড় পতন। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতভিত্তিক নাসডাক কম্পোজিট (Nasdaq Composite) সূচক কমেছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এর ফলে সূচকটি তথাকথিত ‘কারেকশন’ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যা সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ১০ শতাংশের বেশি পতনকে নির্দেশ করে। চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান সূচক ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইনডেক্স এক দিনেই ১২ শতাংশের বেশি কমেছে।
কড়াকড়ির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ
বুধবার কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস) ও সিনেটে ডেমোক্রেটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বাজারে প্রাথমিক উল্লাস দেখা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল ব্যয় ও ক্রমবর্ধমান ঋণ নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে ডেমোক্রেটদের বিজয়ের কারণে এআই খাতে কঠোর নজরদারির আশঙ্কাও যুক্ত হয়েছে। এমনকি প্রযুক্তি খাতের ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেট প্রার্থীরা গভর্নর নির্বাচিত হওয়ায় এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় ধস
বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর। আয়ের পূর্বাভাস কমানোর পর কোয়ালকমের (Qualcomm) শেয়ারের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। চিপ নির্মাতা আর্ম হোল্ডিংসের (Arm Holdings) শেয়ার কমেছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে, খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার (Nvidia) শেয়ারের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।
এ ছাড়া রিপাবলিকান পার্টির বড় অর্থদাতা ইলন মাস্কের পরিচালিত টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ার টানা দুই দিন বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে। ডেমোক্রেটদের বিজয়ের ফলে প্রতিষ্ঠান দুটি কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও তদন্তের মুখে পড়তে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত ও বাজারের পূর্বাভাস
সেটেরা ফিন্যানশিয়াল গ্রুপের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা জিন গোল্ডম্যান এই দরপতনকে সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, “বুল মার্কেটে এ ধরনের কারেকশন সাধারণত স্বল্পস্থায়ী হয়। বর্তমানে বাজার নাজুক হলেও আমরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছি।”
অন্যদিকে, সিটাডেল সিকিউরিটিজের ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজির প্রধান ফ্রাঙ্ক ফ্লাইটের মতে, এআই অবকাঠামো নির্মাণের গতি কিছুটা কমে আসা আলফাবেট ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠিত বিগ-টেক জায়ান্টগুলোর জন্য অনুকূল হতে পারে।
বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ এখনো মনে করছেন, বাজার এই অস্থিরতা কাটিয়ে উঠবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী ১২ মাসে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস।










