সাংবাদিকতা যখন ক্ষমতার অনুগত: অতীতের ভুল থেকে কি শিক্ষা নেবে গণমাধ্যম?

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
এস এম মেহেদী হাসান

সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীনদের প্রশংসা করা নয়, আবার বিরোধীদের অন্ধ সমর্থন করাও নয়। সাংবাদিকের কাজ সত্য তুলে ধরা, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দেশের মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। সরকার ভালো কাজ করলে তা প্রশংসা করতে হবে, আর অন্যায়, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার হলে তা নির্ভয়ে প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের সাংবাদিকতার একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে এই নীতি থেকে সরে গিয়ে দলীয় আনুগত্য ও ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েছে। এর পরিণতি শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের জন্যও তৈরি করেছে ভয়াবহ সংকট।

ফাইল ছবি

এর সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনা। দৈনিক প্রথম আলোর ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন হত্যা মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় তিনি ৫৩ নম্বর আসামি। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১৮ বছর বয়সী আরিফ গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরিফের বাবা শেখ হাসিনাসহ ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী একজন প্রবীণ ও পরিচিত সাংবাদিক। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির চেয়ারম্যান ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। একজন সাংবাদিকের জন্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা নিজে অপরাধ নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাংবাদিকতার পরিচয় ও পেশাগত স্বাধীনতা বজায় রেখে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন কি না? সরকারের উপদেষ্টা হওয়ার পর তাঁর সাংবাদিকসত্তা, পেশাগত নিরপেক্ষতা এবং দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা কতটা অক্ষুণ্ন ছিল—এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করে সরকারের পক্ষে বয়ান তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে টেলিভিশনের লাইসেন্সসংক্রান্ত অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আদালতে উত্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা অবশ্যই তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। মামলা হওয়া বা গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কেউ অপরাধী প্রমাণিত হওয়া নয়। তবে একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের রাজনৈতিক অবস্থান ও ক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জনপরিসরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।

বৃদ্ধ বয়সে এসে একজন প্রবীণ সাংবাদিককে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে যেতে হচ্ছে—ঘটনাটি নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক। কিন্তু বয়স, পরিচিতি কিংবা পেশাগত মর্যাদা কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখে না। একই সঙ্গে তাঁর প্রতি আইনসম্মত আচরণ, ন্যায়বিচার এবং কারাগারে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাঁর আইনজীবীরা বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে কারাগারে ডিভিশন চেয়েছেন। আদালত জানিয়েছেন, জেল কোড অনুযায়ী তিনি যে সুবিধার অধিকারী, তা পাবেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অর্থ হলো, অভিযোগের বিচার হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা জনমতের ভিত্তিতে নয়।

ইকবাল সোবহান চৌধুরীর ঘটনা বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার দীর্ঘদিনের সংকটটি বোঝা যাবে না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আরও অনেক সাংবাদিক ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের কেউ উপদেষ্টা হয়েছেন, কেউ প্রেস সচিব, কেউ পেয়েছেন বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে রাজনৈতিক ক্ষমতার অংশ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা পেশাটির স্বাধীনতাকে দুর্বল করেছে।

এ প্রসঙ্গে আরেকজন আলোচিত সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খানের নাম আসে। তিনি একসময় সম্পাদক ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করে অনেক সাংবাদিক পরবর্তী সময়ে ঢাকার সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নেন। তাঁকে ঘিরে আধুনিক সাংবাদিকতার চর্চা, সংবাদমাধ্যম পরিচালনা এবং তরুণ সাংবাদিকদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। কিন্তু তিনিও শেখ হাসিনার প্রেস সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। একজন সাংবাদিক যখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পদ গ্রহণ করেন, তখন তাঁর পেশাগত নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সাংবাদিকতা ও সরকারের প্রচারব্যবস্থার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা যায় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।

এখানে ব্যক্তির অবদান বা পেশাগত জীবনের সব অর্জন অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক আনুগত্যের মধ্যে যে মৌলিক দ্বন্দ্ব রয়েছে, সেটি স্বীকার করতে হবে। কোনো সাংবাদিক সরকারের দায়িত্ব নিলে তিনি আর আগের মতো স্বাধীনভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন কি না, সেটি একটি বাস্তব প্রশ্ন। এই দ্বন্দ্বের সমাধান না করে ক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে পেশাগত সাফল্য হিসেবে দেখার প্রবণতা সাংবাদিকতার জন্য ক্ষতিকর।

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দলীয় আনুগত্যের অভিযোগে পরিচিত অনেক সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্ষমতার বলয়ের অংশ হয়ে উঠেছিলেন। কেউ সরাসরি সরকারি পদে গেছেন, কেউ সরকারের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন, আবার কেউ সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশে অনীহা দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কেউ আত্মগোপনে রয়েছেন, কেউ দেশ ছেড়েছেন। তবে কারও বিরুদ্ধে মামলা বা রাজনৈতিক অভিযোগ থাকলেই তাঁকে অপরাধী বলা যায় না সত্য, কিন্তু সহকর্মী সাংবাদিকরা জানেন তিনি অপরাধী কি-না। সাংবাদিকতার আড়ালে অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। টেলিভিশন উপস্থাপক ও সাংবাদিক মুন্নী সাহার ব্যাংক হিসাবে ১৩৪ কোটি টাকার সন্দেহভাজন লেনদেনসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রমাণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ রয়েছে শেখ হাসিনা সরকার বিগত দিনে অনেক সাংবাদিককে কিনে নিয়েছিলেন। বিভিন্ন সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার পরিবর্তে, গুণকীর্তনে মত্ত থাকতেন। কে কার চেয়ে বেশি গুণকীর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠভাজন হতে পারেন। এমনও অভিযোগ রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি বা সেলফি তোলার জন্য প্রতিযোগীতা হতো। বর্তমানেও তা বন্ধ হয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে সেভাবেই ব্যবহার করার চেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—সাংবাদিকতার জায়গায় দলীয় আনুগত্য প্রতিষ্ঠিত হলে ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ভুল সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য জানতে পারে না। প্রশাসনের দুর্নীতি, রাজনৈতিক সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহার আড়ালে থেকে যায়। ক্ষমতাসীনদের ঘিরে থাকা প্রশংসাকারীরা তখন সরকারকে বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। ফলে সরকারের ভেতরে ভুল সিদ্ধান্ত ও অনিয়ম বাড়তে থাকে, আর জনগণের ক্ষোভ জমতে থাকে। এভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার অনুপস্থিতি একটি সরকারের পতনের পেছনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তবে কোনো সরকারের পতনের জন্য শুধু সাংবাদিকদের দায়ী করা যাবে না; রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের আন্দোলনসহ বহু কারণ একসঙ্গে কাজ করে।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সামনে আত্মসমালোচনার বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সত্যিই সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছি? বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশপাশে থাকা কিছু সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর মধ্যেও অতীতের মতো ক্ষমতাকেন্দ্রিক আনুগত্যের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলে আলোচনা শোনা যায়।  প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তুলে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে নিজেকে জাহির করছেন, তিনি না-কি প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠজন। এসব আলোচনা সত্য হলে তা উদ্বেগজনক।

একটি সরকার পরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের দায়িত্বও বদলে যায় না। শেখ হাসিনার সরকারের সময় যাঁরা ক্ষমতার সমালোচনা করতে পারেননি, তাঁরা নতুন সরকারের সময়ও যদি একই আচরণ করেন, তাহলে পরিবর্তনের কোনো অর্থ থাকবে না। তারেক রহমানের সরকার ভালো কাজ করলে সংবাদমাধ্যম তা তুলে ধরবে। আবার তাঁর সরকারের কোনো মন্ত্রী, উপদেষ্টা বা প্রশাসনের কর্মকর্তা দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে সেটিও প্রকাশ করতে হবে। সাংবাদিকের দায়িত্ব সরকারকে খুশি রাখা নয়; জনগণকে সত্য জানানো।

এ জন্য সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যেও ঐক্য ও পেশাগত প্রতিজ্ঞা প্রয়োজন। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। সংবাদমাধ্যমের মালিকানা, সম্পাদকীয় নীতি এবং সরকারি বিজ্ঞাপন ও লাইসেন্স বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, চাকরির নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে অনেকেই মালিক বা ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষায় বাধ্য হতে পারেন। তাই শুধু সাংবাদিকদের নৈতিকতার কথা বললে চলবে না, তাঁদের কাজের পরিবেশও সুরক্ষিত করতে হবে।

সাংবাদিকতার স্বাধীনতা মানে যা খুশি লেখা নয়; এর অর্থ তথ্য যাচাই করে সত্য প্রকাশ করা, ভুল হলে সংশোধন করা এবং কোনো রাজনৈতিক পক্ষের স্বার্থে সংবাদকে ব্যবহার না করা। একইভাবে সরকারের সমালোচনা করা মানেই রাষ্ট্রবিরোধিতা নয়। বরং দায়িত্বশীল সমালোচনা রাষ্ট্র ও সরকারকে ভুল সংশোধনের সুযোগ দেয়।

ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচার আদালতেই হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর প্রমাণিত না হলে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন—এটাই প্রত্যাশা। কিন্তু তাঁর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের উচিত নিজেদের অতীত ভূমিকা পর্যালোচনা করা। ক্ষমতার কাছে থাকার সুবিধা সাময়িক, কিন্তু পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে তা সহজে ফিরে পাওয়া যায় না।

আজ সাংবাদিকদের নতুন করে প্রতিজ্ঞা করতে হবে—আমরা কোনো দলের নই, কোনো সরকারের নই; আমরা দেশের মানুষের। ক্ষমতাসীনদের ভালো কাজ তুলে ধরব, অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করব এবং সত্য প্রকাশে কারও কাছে মাথা নত করব না। কারণ সাংবাদিকতা যদি ক্ষমতার অনুগত হয়ে পড়ে, তাহলে গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলার মতো স্বাধীন কণ্ঠ আর অবশিষ্ট থাকে না।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক

monir
Admin

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও