![]()
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন সামান্তা শারমিন। গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।’
প্রায় এক বছর আগে এনসিপির জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন বলে জানান সামান্তা। তাঁর বক্তব্য ছিল, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয়। দলটির সঙ্গে জোট করলে এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।
গত শুক্রবার এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাঁকে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। এতে তাঁর পদাবনতি হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে দীর্ঘ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন সামান্তা।
তিনি লেখেন, গত ১১ মাস ধরে নিজের রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে সুযোগ পেলেই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, সংগঠনে নানা চড়াই-উতরাই থাকে। দল ভুল পথে গেলে তা থেকে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করা তাঁর রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল।
সেই কর্তব্য পালনে এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, দলের গৃহীত নীতিগুলোকে স্বীকৃত ফোরামে যুক্তিসংগতভাবে চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার অন্য কোনো গণতান্ত্রিক পন্থা ছিল না।
প্রায় এক বছরের সেই সংগ্রামের ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে সামান্তা লেখেন, এনসিপির পক্ষে দলটির সূচনালগ্নের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক থাকা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন না।
পদত্যাগের জন্য আরও উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করতে পারতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় পদত্যাগ করলে বিষয়টি মূল্যায়ন করা সহজ হতো। তবে তাঁর মতে, সেই অপেক্ষা অর্থহীন। এনসিপি কখনো কখনো বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিতে পারে, এমনকি জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগের সিদ্ধান্তও নিতে পারে। কিন্তু তবুও পুরোনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না।
তিনি লেখেন, ‘দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনই রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা আনার জন্য সহায়ক হবে না। বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে।’
দলের সঙ্গে এতদিনের মতপার্থক্য ও আলোচনার বিষয়গুলো এখন দলের সদস্যদের পাশাপাশি দলীয় কাঠামোর বাইরের শুভানুধ্যায়ীদেরও জানানো প্রয়োজন বলে মনে করেন সামান্তা।
তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক সংস্কারের মূল ভিত্তি একটি উদার গণতান্ত্রিক সামাজিক মূল্যবোধ। অন্যদিকে, জামায়াত শুধু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থী নয়, বরং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সব সুবিধা কাজে লাগিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সংগঠনটির রাজনৈতিক অভিপ্রায়।
সামান্তার অভিযোগ, জামায়াতের রাজনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনে গণহত্যাকেও বৈধ মনে করে দলটি। ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা অপরাধ হিসেবে স্বীকার না করা এবং এ জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টিকে তিনি দলটির সাংগঠনিক ও দার্শনিক ভিত্তির অংশ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও লেখেন, এনসিপি যখন জামায়াতকে সংস্কারের পথে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করেছে, তখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ—যাঁরা স্বভাবগতভাবেই উদার ও গণতান্ত্রিক এবং সংস্কারের প্রকৃত শক্তি—সংস্কারের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সামান্তার মতে, এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না থাকায় দলটি জামায়াতের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের জন্য প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে এনসিপিকে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া দল হিসেবে এনসিপিকে বারবার এসব সমস্যা সম্পর্কে সতর্ক করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।










