ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধরাশায়ী ট্রাম্পের দল

ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধরাশায়ী ট্রাম্পের দল
ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধরাশায়ী ট্রাম্পের দল
মুক্তিবাণী অনলাইন ডেক্স

ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধরাশায়ী ট্রাম্পের দল

নির্বাচনের ছয় দিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ডজনের বেশি শীর্ষ কৌশলবিদ একটি ব্যক্তিগত ভিডিও বৈঠকে যোগ দেন।

সবার মন খারাপ ছিল। বৈঠকের শুরুতেই সায়ানাইড নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

প্রেসিডেন্টের প্রধান জনমত জরিপকারী টনি ফাব্রিজিও প্রশ্ন করেন, ‘আগে সাদা বড়ি খাবেন, নাকি কালো বড়ি?’

রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ তথ্য পরামর্শকদের একজন টিম সেলার দুটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। প্রথমটি হলো, ৪০ কোটি ডলারের ‘মাগা ইনকরপোরেটেড’ (ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থনকারী একটি রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহকারী সংগঠন) সুপার পিএসি ঠিক সেই ভোটারদের কাছে পৌঁছেছে, যাঁদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল এবং যাঁরা ভোট দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এটাই আশাবাদী সম্ভাবনা।’

অন্য সম্ভাবনাটি ছিল বড় পরাজয়।

প্রেসিডেন্টের মধ্যবর্তী নির্বাচনী কৌশল দেখভালের দায়িত্ব নিতে হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাওয়া জেমস ব্লেয়ার বলেন, ‘আমি আমার শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করে রাখছি। বাকিদেরও তা করার পরামর্শ দিচ্ছি।’ বৈঠকে উপস্থিত চারজনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর কথায় সবাই হেসেছিলেন।

প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বৈঠকে পরাজয়ের আশঙ্কা নিয়ে এ ধরনের ‘কালো রসিকতা’ চলতে থাকে। আলোচনায় উঠে আসে শেষকৃত্যের আয়োজন, কারাগারের খাবার, প্রেসিডেন্টের ক্ষমা এবং দেশ ছেড়ে পালানোর প্রসঙ্গ।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কথা উল্লেখ করে ব্লেয়ার ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘অন্তত বিবি তো জিতেছেন। তিনি আমাদের রক্ষা করবেন।’ এর আগের দিন ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। পরে তাঁর দল নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে।

ফাব্রিজিও বলেন, ‘হয়তো আমরা ইসরায়েলে আশ্রয় চাইতে পারি।’

রিপাবলিকানদের পরাজয়ের প্রকৃত ব্যাপ্তি এক সপ্তাহ পর স্পষ্ট হয়। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়। কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাসের মতো রিপাবলিকান-সমর্থিত রাজ্যেও তাদের জয় ছিল বড় সাফল্য। এক বছর আগেও খুব কম মানুষ এমন ফলের কথা কল্পনা করতে পেরেছিলেন।

রিপাবলিকান পার্টির এই বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে ৭০ জনের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকারে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আইনপ্রণেতা, রাজনৈতিক কৌশলবিদ, দলীয় নেতা, জনমত জরিপকারী, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা এবং কংগ্রেসের সহকারীরা। তাঁরা সবাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ব্যক্তিগত আলোচনা ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা বলতে তাঁদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়েছেন।

এই পরাজয়ের মাত্রা আগে থেকে নিশ্চিত ছিল না।

রিপাবলিকানদের হাতে ছিল রেকর্ড পরিমাণ নির্বাচনী তহবিল। তাঁদের পাশে ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। প্রচারের অর্থায়ন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি অনুকূল রায়ও ছিল। অন্যদিকে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা তখন হতাশ এবং জনপ্রিয়তাহীন ছিল। সিনেট নির্বাচনে এমন সব রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হতো, যেখানে কয়েক দশক ধরে তারা জিততে পারেনি।

প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ট্রাম্পের দল ১০ বছর পরপর নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের রীতি ভেঙে মেয়াদের মাঝপথেই নতুন সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়। এর মাধ্যমে রিপাবলিকানদের সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও নিরাপদ করতে নতুন নির্বাচনী এলাকা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়।

কিন্তু অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের আস্থা হারানো একজন প্রেসিডেন্টকে সামাল দিতে পারেনি দলটি। মধ্যপ্রাচ্যের একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধও তাদের হিসাবের বাইরে ছিল। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায় এবং গ্যাসোলিনের দাম গ্যালনপ্রতি চার ডলারের বেশি হয়। নির্বাচন পর্যন্ত যুদ্ধ অব্যাহত থাকে।

অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের ভুলগুলো কাজে লাগাতে এবার প্রস্তুত ছিল ডেমোক্র্যাটরা।

জেমস ব্লেয়ার ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। আইনপ্রণয়ন, রাজনৈতিক বিষয় ও জনসংযোগ দেখভাল করা ছিল তাঁর দায়িত্বের অংশ। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সাময়িকভাবে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব ছেড়ে তিনি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী কৌশল পরিচালনার দায়িত্ব নেন।

গ্রীষ্মকালে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের কাছে একটি উপস্থাপনা পাঠিয়েছিলেন ব্লেয়ার। তাতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

উপস্থাপনার একটি স্লাইডে রিপাবলিকানদের জনমত জরিপের ফলাফলের সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সময়রেখা দেখানো হয়।

স্লাইডে দেখা যায়, যুদ্ধ চলার সময় ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান বেড়েছিল। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলার সময় সেই ব্যবধান কমে আসে। কিন্তু যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ব্যবধান আবার বাড়তে শুরু করে।

জুলাইয়ের শেষ নাগাদ কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ১০ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন।

স্লাইডটির মূল বার্তা ছিল পরিষ্কার। হলুদ রঙে লেখা ছিল, ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান ৪ শতাংশ পয়েন্টে নামলে রিপাবলিকানদের প্রতিনিধি পরিষদে জয়ের কিছু সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে সে জন্য দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি চালু থাকা এবং গ্যাসের দাম কমা জরুরি।

স্লাইডে আরও বলা হয়েছিল, ‘শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলে আমরা সম্ভবত সিনেটও হারাব।’

মঙ্গলবারের ফলাফল ছিল আরও খারাপ। নিউইয়র্ক টাইমসের হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে কংগ্রেস নির্বাচনের জনপ্রিয় ভোটে ট্রাম্পের দল প্রায় ১৩ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়তে যাচ্ছে। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর থেকে গত অর্ধশতকে এটি সবচেয়ে বড় পরাজয় হতে পারে।

ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার আগেই ট্রাম্প ভাবতে শুরু করেছিলেন, অন্য সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি কী হতে পারত।

তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমন একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে জানতে চেয়েছিলেন, ‘আমরা যদি কখনো ইরানে যুদ্ধে না যেতাম, তাহলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কী হতো?’

ভোটারদের কাছে যুদ্ধটি একটি সহজ বার্তা তৈরি করেছিল।

প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প নতুন যুদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; অথচ তিনিই নতুন একটি যুদ্ধ শুরু করেন।

ট্রাম্প দাম কমানোর কথা বলেছিলেন; কিন্তু গ্যাসের দাম বেড়ে যায়, বাড়ে মূল্যস্ফীতিও।

রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয় কেবল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের গল্প ছিল না। এটি ছিল ক্ষমতার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের পরিণতির গল্পও।

২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ঘটনার পর ট্রাম্প যখন আবার রাজনীতিতে ফিরে আসেন, তখন তাঁর কয়েকজন উপদেষ্টার ধারণা ছিল, ট্রাম্প হয়তো মনে করতেন, রাজনৈতিক নিয়মকানুন আর তাঁর জন্য প্রযোজ্য নয়। মঙ্গলবার রাতের ফলাফল সেই ধারণা ভেঙে দেয়।

প্রায় দুই বছরে আত্মবিশ্বাস থেকে জন্ম নেওয়া ঔদ্ধত্য ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনদর্শনে পরিণত হয়েছিল।

একটির পর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, ট্রাম্প, তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করে প্রকাশ্যেই নিজেদের সম্পদ বাড়িয়েছেন। এসব প্রতিবেদন ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। অক্টোবরের শুরুর দিকে ফক্স নিউজের একটি জনমত জরিপে দুর্নীতি ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে আসে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সব সময় আমেরিকার জনগণের স্বার্থে কাজ করেন। এখানে স্বার্থের কোনো সংঘাত নেই।’

২০২৫ সালে ট্রাম্প পুরো বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেন। এক বছরের বেশি সময় পরও সেই যুদ্ধের প্রভাব পড়ছিল কৃষি খাতে। বিশেষ করে কানসাস, টেক্সাস ও আইওয়ার মতো রাজ্যে, যেগুলো হঠাৎ করেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

এসব পরিস্থিতির মধ্যেও ট্রাম্প এমন আচরণ করছিলেন, যেন তাঁর নীতির কারণে আমেরিকানদের যে কষ্ট হচ্ছিল, তাতে তাঁর কিছু যায়-আসে না।

গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এটা মেনে নেওয়ার মতো ছোট মূল্য।’

ট্রাম্পের দলের কয়েকজন সদস্য এতে বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের মনে হচ্ছিল, সীমান্ত পরিস্থিতির চেয়ে নিজের নতুন বলরুম নিয়ে বেশি কথা বলছেন ট্রাম্প। মুদিপণ্যের দামের বদলে গলফ কোর্স এবং মূল্যস্ফীতির বদলে ঘরের সাজসজ্জা নিয়ে তাঁর আগ্রহ বেশি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের রাতে ট্রাম্পের শেষ প্রচারবার্তায় ছিল ন্যাশনাল মলের ‘রিফ্লেক্টিং পুল’ সংস্কারের প্রসঙ্গ। তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, আব্রাহাম লিংকনের নামে না রেখে পুকুরটির নাম নিজের নামে রাখার কথা ভাবছেন।

এবার ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের প্রতিদিনের নতুন বিতর্কে জড়ায়নি। বরং দুর্নীতির সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সম্পর্ক তুলে ধরেছে তারা। পাশাপাশি এমন একটি সরকারের চিত্র সামনে এনেছে, যে সরকার সাধারণ মানুষের কষ্টের সময়ে ধনীদের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এর মধ্যে ছিল জেফরি এপস্টিনের সুরক্ষিত সহযোগীরা এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগতভাবে ২২০ কোটি ডলার মুনাফা করার খবর।

প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পরিবর্তনের উদ্যোগের দ্রুত পাল্টা জবাব দেয় ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকান-সমর্থিত এলাকাগুলোতেও শক্তিশালী প্রার্থী মনোনয়ন দেয় দলটি, যাতে আরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়।

সিনেটেও শক্তিশালী কয়েকজন প্রার্থী খুঁজে বের করে ডেমোক্র্যাটরা। তাঁদের কারণে এমন কিছু রাজ্যেও প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়, যেগুলোকে আগে জেতা অসম্ভব বলে মনে করা হতো।

নির্বাচনের শেষ কয়েকটি উত্তেজনাপূর্ণ সপ্তাহে রিপাবলিকানরা নর্থ ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ার মতো পরিচিত দোদুল্যমান রাজ্য থেকে অর্থ সরিয়ে সাউথ ক্যারোলাইনা, এমনকি মিসিসিপির মতো নিজেদের শক্ত ঘাঁটি রক্ষায় ব্যয় করে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হাকিম জেফ্রিস সেখানে ডেমোক্র্যাটদের নেতা। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ দুই দলের মধ্যে পার্থক্যকে ‘অনেক বেশি স্পষ্ট’ করে তুলেছিল। তিনি ডেমোক্র্যাটদের নেতা এবং নতুন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হওয়ার পথে রয়েছেন।

রিপাবলিকানরা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ‘সাধারণ বুদ্ধি বনাম পাগলামি’ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিল। বামপন্থী ডেমোক্র্যাট সমাজতন্ত্রীদের উত্থান নিয়ে তারা বারবার আক্রমণ চালায়।

কিন্তু নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের জনমত জরিপকারীর করা শেষ জরিপে দেখা যায়, ‘মাগা’ (আমেরিকাকে আবার মহান করো) পরিচয়ের রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট সমাজতন্ত্রী—দুই পক্ষই ভোটারদের কাছে অজনপ্রিয়। তবে ভোটারদের কাছে ‘মাগা’ পরিচয়ের নেতিবাচক প্রভাব ছিল বেশি।

যেসব রিপাবলিকান ভোটার ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন না, তাঁদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কী করলে তাঁরা আবার দলটিকে ভোট দেবেন। সবচেয়ে বেশি দেওয়া দুটি উত্তর ছিল—যুদ্ধ বন্ধ করা এবং মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা করা।

নির্বাচনের আগের শেষ বৈঠকে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছিলেন। তবে তাঁদের আলোচনায় ব্যঙ্গও ছিল। তাঁরা মিনেসোটায় গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ট্রাম্পের এক মিত্রের কথা তোলেন। প্রাইমারিতে বড় ব্যবধানে হেরেও তিনি ভোট পুনর্গণনার দাবি করেছিলেন।

ব্লেয়ার ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘সব ঠিক আছে। আমরা মাইক লিনডেলের মতো করব। যত পয়েন্টেই হারি না কেন, ভোট পুনর্গণনার দাবি জানাব।’

‘মাগা ইনকরপোরেটেড’ সুপার পিএসির মুখপাত্র অ্যালেক্স ফাইফার বলেন, ‘দলটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ও পরিষ্কার ধারণা ছিল।’ এ কারণে তাঁরা প্রতিনিধি পরিষদের যেসব নির্বাচনী এলাকায় রিপাবলিকানরা এগিয়ে ছিলেন, সেগুলোতে অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। এসব এলাকার মধ্যে ছিল মেইন, ফ্লোরিডা, টেনেসি, নিউইয়র্ক ও টেক্সাস।

এক বিবৃতিতে অ্যালেক্স ফাইফার বলেন, ‘যাঁরা বানানো উক্তি ও মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন, তাঁরা শুধু প্রেসিডেন্টের দলের জন্য তাঁর ঐতিহাসিক ও উদার বিনিয়োগকে ছোট করছেন না, এই প্রচেষ্টায় কাজ করা অনেক মানুষের পরিশ্রমকেও অপমান করছেন। তাঁরা কাপুরুষ ও পরাজিত।’

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে লিখিতভাবে মন্তব্য করতে চাননি হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যালটে ছিলেন না। প্রমাণিত হয়েছে, ট্রাম্প ব্যালটে থাকলে তাঁর ভোটাররা ভোট দিতে আসেন। প্রার্থীর যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যালটে থাকা অনেক প্রার্থীর পক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁদের নিজেদের চেয়েও ভালো প্রচার করেছেন।

হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট বুধবার সকালে স্বীকার করেছিলেন যে ইরান যুদ্ধ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। তবে তিনি বারবার বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না।

নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট নেতা সিনেটর চাক শুমার সিনেট নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী প্রার্থী খুঁজতে অনেক চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে ট্রাম্প এমন কয়েকটি পদক্ষেপ নেন, যাতে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ঝুঁকির মুখে পড়ে।

আইওয়ার সিনেটর জোনি আর্নস্ট ট্রাম্পের সবচেয়ে বিতর্কিত মনোনীত প্রার্থীদের বিরোধিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেটর থম টিলিস ট্রাম্পের প্রধান কর ও ব্যয় বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। এরপর ট্রাম্পের মিত্ররা তাঁদের রাজনৈতিক জীবন শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। দুজনই অবসরের সিদ্ধান্ত নেন। ফলে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা দুটি আসনে নতুন প্রার্থী দাঁড় করাতে হয়। এতে আসন দুটি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

নর্থ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক লবিস্ট মাইকেল হোয়াটলির জন্য অন্য প্রার্থীদের সরিয়ে দেন। কিন্তু হোয়াটলি শক্তিশালী প্রার্থী হয়ে উঠতে পারেননি। রাজ্যের জনপ্রিয় সাবেক ডেমোক্র্যাট গভর্নর রয় কুপারের কাছে তিনি হেরে যান।

সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জুলাইয়ে মারা যান। ট্রাম্প তাঁর বোন ডার্লিনকে সাময়িকভাবে আসনটি দেওয়ার পাশাপাশি ছয় বছরের পূর্ণ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে দাঁড় করানোর পক্ষে ছিলেন। এতে অভিজ্ঞতা ও নির্বাচনী তহবিলের ভিত্তি নেই, এমন একজন প্রার্থীকে সামনে আনা হয়। তিনি এমন একটি রাজ্যে হেরে যান, যেখানে ১৯৯৮ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।

তবে রিপাবলিকানদের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর প্রার্থী ছিলেন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিল। রিপাবলিকান সিনেটর জন করনিনকে বাদ দিয়ে প্যাক্সটনকে সমর্থন দেন ট্রাম্প। প্যাক্সটন আসনটি ঝুঁকিতে ফেলতে পারেন—এমন সতর্কবার্তা এক বছর ধরেই ছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করেন ট্রাম্প।

শেষ পর্যন্ত টেক্সাসে রিপাবলিকানদের প্রায় ৩০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়। এই অর্থ অন্য রাজ্যের প্রার্থীদের সহায়তায় ব্যবহার করা যেত। প্যাক্সটন ১২ পয়েন্টে হেরে যান।

সাম্প্রতিক আরেকটি বৈঠকে ট্রাম্পের দলের সদস্যরা তাঁদের কয়েকজন প্রার্থীকে নিয়ে ঠাট্টা করেন।

এর এক সপ্তাহ আগে ব্লেয়ার দলকে বলেছিলেন, ‘দেখুন, শত্রুকে চিনে ফেলেছি। শত্রু আমরা নিজেরাই।’

ফাব্রিজিও উত্তর দিয়েছিলেন, ‘অনেক জায়গায় তাই।’

২০২৫ সালের মে মাসে নিউইয়র্কের হাডসন ভ্যালির অভিজাত রিসোর্ট ওয়াইল্ডফ্লাওয়ার ফার্মসে যান ডেমোক্র্যাট দলের নেতা ও সিনেটর চাক শুমার। সেখানে দলের দাতা ও কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিনেটের নির্বাচনী লড়াই আরও বেশি রাজ্যে ছড়িয়ে দিতে তিনি মরিয়া ছিলেন।

ওই বৈঠকে টেক্সাসের তরুণ রাজ্য আইনপ্রণেতা জেমস টালারিকো প্রচারে গল্প বলার গুরুত্ব নিয়ে পাঁচ মিনিটের একটি বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যে মুগ্ধ হন শুমার। পরে অন্তত দুজনকে তিনি বলেন, টালারিকোকে সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের সব আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত চারটি আসন জিততে হতো। এর মধ্যে এমন রাজ্যও ছিল, যেখানে ২০২৪ সালে ট্রাম্প বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।

শুমার কয়েক মাস ধরে রয় কুপারকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেন। সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউনকে রাজি করাতে তিনি অন্তত তিনবার ওহাইও যান। ২০২৪ সালে ব্রাউন হেরেছিলেন। তবে সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলার যে পরিচিতি তাঁর ছিল, তা তখনকার রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে মানানসই ছিল।

শুমার ব্রাউনকে বলেছিলেন, ‘আপনি অবসরে গেলে আর আমরা যদি একটি ভোটের ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাই, তাহলে আপনার অবসর ভালো কাটবে না।’ তখন ব্রাউনের বয়স ছিল ৭৩ বছর।

কুপার ও ব্রাউন দুজনই নির্বাচনে অংশ নেন এবং জয়ী হন।

প্রতিনিধি পরিষদে ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের তিনটি আসন কম ছিল। তাই দলীয় নিয়োগকারীরা এমন এলাকাগুলোতে প্রার্থী খুঁজতে শুরু করেন, যেখানে ট্রাম্প ১০ পয়েন্ট বা তার বেশি ব্যবধানে জিতেছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, ক্ষমতা হাতে পেয়ে ট্রাম্প বাড়াবাড়ি করবেন।

২০২৪ সালে ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী প্রার্থী বাছাই নিয়ে হাউস মেজরিটি পিএসি ২০২৫ সালের এপ্রিলে একটি বিশ্লেষণ করে। এতে দেখা যায়, দুটি বিষয় প্রার্থীদের শক্তিশালী করেছিল—তাঁদের মধ্যপন্থী হিসেবে দেখা হতো এবং তাঁরা অর্থনীতির ওপর জোর দিতেন।

পিএসির সভাপতি মাইক স্মিথ বলেন, রিপাবলিকান-সমর্থিত এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে এমন প্রার্থী খুঁজতে হবে, যাঁদের দেখামাত্র ভোটারদের বিরক্তি তৈরি হয় না।

এ কারণে দলটি ভিন্ন ধরনের পরিচয় ও অভিজ্ঞতার প্রার্থী খুঁজতে থাকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সেনাসদস্য, চিকিৎসক, কৃষক, দাবানল মোকাবিলায় কাজ করা একজন কর্মী এবং সংগীতশিল্পী। তাঁদের যেন পেশাদার রাজনীতিক বলে মনে না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছিল।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনী লড়াইয়ের ক্ষেত্রটিই নতুন করে সাজাতে চাইছিলেন।

২০২৫ সালের বসন্তে ব্লেয়ার ছিলেন ট্রাম্পের উপপ্রধান কর্মী। তিনি প্রেসিডেন্টকে একটি পরিকল্পনা দেন। এর লক্ষ্য ছিল ১০ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কংগ্রেসের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পরিবর্তন করে রিপাবলিকানদের আসন আরও নিরাপদ করা। টেক্সাসে এই উদ্যোগ শুরু হয়। পরে তা রিপাবলিকান-শাসিত অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

টেক্সাসের পরিকল্পনার কথা প্রথম শুনে হাকিম জেফ্রিস অবিশ্বাসের সঙ্গে উপদেষ্টাদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই মজা করছেন।’ রাজ্য আইনপ্রণেতাদের অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে তিনি টেক্সাসে যান। আইনপ্রণয়নের প্রক্রিয়া ধীর করতে অনেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা রাজ্য ছেড়ে চলে যান।

তবে ট্রাম্পের উদ্যোগ সফল হয়। রিপাবলিকানরা নিজেদের জন্য পাঁচটি নতুন আসন তৈরি করে। ২০২৪ সালে ওই পাঁচটি আসনে ট্রাম্প দুই অঙ্কের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। রিপাবলিকানদের ধারণা ছিল, মধ্যবর্তী নির্বাচনে সমর্থন কিছুটা কমলেও আসনগুলো তাদের জিতিয়ে দেবে।

ডেমোক্র্যাটরাও পাল্টা উদ্যোগ নেয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের পরিকল্পনা অনুমোদন করেন। এতে ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে পাঁচটি নতুন আসন তৈরির কথা ছিল। ভার্জিনিয়ার ভোটাররা আরও চারটি আসন তৈরির একটি মানচিত্র অনুমোদন করেন। তবে পরে রাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট সেটি বাতিল করে দেয়।

শুরু থেকেই নিজের পরিকল্পনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ব্লেয়ার। তিনি ও প্রেসিডেন্ট সেই রিপাবলিকানদের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেন, যাঁরা মনে করেছিলেন, এই পরিকল্পনা উল্টো ফল দিতে পারে।

কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের বিশ্বাস করার কারণ তৈরি হয় যে, কয়েকটি ডেমোক্র্যাট-শাসিত রাজ্যে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা রিপাবলিকানদের পরিকল্পনার প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে।

জেফ্রিস এক সংবাদ সম্মেলনে একটি পোস্টার দেখান। সেখানে ট্রাম্প ও ব্লেয়ারের মুখের সঙ্গে দ্য টাইমসের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত পরিচয়হীন এক ব্যক্তির বক্তব্য ছিল, ‘সব জায়গায়, সব সময় সর্বোচ্চ লড়াই।’

পোস্টারটি দেখে ব্লেয়ার জেফ্রিসের শীর্ষ সহকারী গিডিয়ন ব্রাগিনকে বার্তা পাঠান, ‘এটার একটা কপি কি আমার অফিসে পাঠাতে পারবেন?’

তবে পোস্টারটি প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সদর দপ্তরেই থেকে যায়। নির্বাচনের দিন রিপাবলিকানদের সুবিধার জন্য তৈরি করা অনেক আসনেও ডেমোক্র্যাটদের বড় জোয়ার বয়ে যায়।

২০২৬ সালের শুরুতে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করে ট্রাম্প প্রশাসন। মিনিয়াপলিসে অভিযান সহিংস হয়ে ওঠে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হন। দুজনের মৃত্যুর ঘটনাই ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছিল।

ট্রাম্প উপদেষ্টাদের বলেছিলেন, ভিডিওগুলো তাঁর ভালো লাগেনি।

হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস কয়েক মাস ধরে ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে কঠোর অভিবাসননীতি থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন। এই নীতির পক্ষে ছিলেন প্রেসিডেন্টের শীর্ষ নীতি উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার।

মিনিয়াপলিসের ঘটনার কিছুদিন পর ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ জনমত জরিপে দেখা যায়, অভিবাসন বিষয়ে দলটি প্রথমবারের মতো এগিয়ে গেছে। ট্রাম্পের একজন রাজনৈতিক কৌশলবিদের মতে, যে বিষয়টি একসময় ট্রাম্পের শক্তির জায়গা ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে বড় দুর্বলতায় পরিণত হয়।

দ্বিতীয় গুলির ঘটনার প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ান।

শুরুতে ব্লেয়ারও তাঁর বসের মতো যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে আশাবাদী ছিলেন। সংশয়ী সহকর্মীদের তিনি আশ্বস্ত করেন, এই যুদ্ধ রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হবে না। প্রতিরক্ষা দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তাও হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছিলেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হবে।

কিন্তু চার থেকে ছয় সপ্তাহের যে সময়সীমার কথা বলা হয়েছিল, তা কয়েক মাসে গড়ায়।

প্রকাশ্যে ট্রাম্প সামরিক বিজয়কে বড় করে তুলে ধরছিলেন। অন্যদিকে ব্যক্তিগত বৈঠকে উপদেষ্টারা তাঁকে জানাচ্ছিলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে, গ্যাস ও সারের দাম বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার দ্রুত কমে যাচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ পর মার্চ মাসে ফাব্রিজিওর পরিচালিত দলীয় আলোচনা থেকে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট কেন যুদ্ধ শুরু করেছেন, তা ভোটাররা বুঝতে পারছিলেন না। তাঁরা এটিকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে দেখছিলেন। তাঁদের মতে, যুদ্ধের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছিল।

যুদ্ধবিরোধী ডানপন্থী সাবেক মিত্রদের মধ্যে টাকার কার্লসন এবং জর্জিয়ার সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন প্রকাশ্যেই ট্রাম্পের বিরোধিতা শুরু করেন।

উপদেষ্টাদের মতে, যুদ্ধের কারণে নিজের সমর্থন কমছে, তা ট্রাম্প জানতেন। তবে অল্প সময়ের জন্য মনে হয়েছিল, তিনি এই বিপদ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন। জুনের মাঝামাঝি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করেন। এতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে।

ফাব্রিজিও ওই প্রস্তাব নিয়ে প্রথম জনমত জরিপ করেন। এতে দেখা যায়, চুক্তির বিষয়ে যাঁরা জানতেন, তাঁদের মধ্যে ৪১ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে সমর্থন ছিল। ৬৭ শতাংশ মনে করতেন, এই চুক্তির ফলে গ্যাসের দাম কমবে।

কিন্তু টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজসহ ইরান বিষয়ে রিপাবলিকানদের কট্টরপন্থীরা ট্রাম্পকে তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন। শেষ পর্যন্ত চুক্তি ভেঙে যায় এবং যুদ্ধও চলতে থাকে।

২০২৪ সালের নির্বাচনের পরও ট্রাম্প অর্থ সংগ্রহ বন্ধ করেননি। তিনি প্রায় ৪০ কোটি ডলারের তহবিল গড়ে তোলেন। উপদেষ্টাদের কাছে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, এই অর্থকে তিনি ‘আমার টাকা’ হিসেবে দেখেন।

নির্বাচনের ১০০ দিনেরও কম সময় বাকি থাকতে আগস্টে রিপাবলিকান সিনেটের কৌশলবিদেরা বুঝতে পারছিলেন না, ট্রাম্পের দল কোথায় অর্থ ব্যয় করবে। তাঁদের একজন বলেন, দলটি কতটা অপ্রস্তুত ছিল, তা দেখে তিনি ‘হতবাক’ হয়েছিলেন।

ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা বলেন, পরিকল্পনা ছিল; কিন্তু প্রেসিডেন্ট অনুমোদন না দেওয়ায় তা জানানো যাচ্ছিল না।

কোনো কোনো দিন ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে উপদেষ্টাদের বলতেন, ‘আমাদের জিততেই হবে। যা করতে হয়, করো।’ আবার কোনো দিন তাঁকে বিষয়টি নিয়ে উদাসীন মনে হতো। তিনি সহকারীদের বলেছিলেন, ‘তারা আমাকে ছাড়া জিততে পারে না, এটা আমার সম্পর্কে খুব ভালো কথা বলে।’

ব্লেয়ার ও অন্যদের প্রেসিডেন্টকে অর্থ ব্যয়ের অনুমতি দিতে রাজি করাতে হয়েছিল। গ্রীষ্মের শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প অনুমোদন দেননি।

এই বিলম্বের কারণে অর্থের অপচয় হয়। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, বিজ্ঞাপনের দামও তত বাড়তে থাকে।

অক্টোবরের মাঝামাঝি এক সপ্তাহে অ্যাঙ্করেজের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ট্রাম্পের সুপার পিএসি ডেমোক্র্যাটদের প্রধান সুপার পিএসির তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি অর্থ দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করে। অথচ তাদের বিজ্ঞাপনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ কম। কারণ, তারা আগেভাগে প্রচারের সময় বুক করেনি।

ডেমোক্র্যাটদের দল স্থানীয় সন্ধ্যার সংবাদে একটি বিজ্ঞাপনের জন্য ২ হাজার ৭০০ ডলার ব্যয় করে। একই সময়ে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ট্রাম্পের সুপার পিএসিকে দিতে হয় ৩০ হাজার ডলার।

সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ঝুঁকিতে থাকা আইনপ্রণেতারা দূরত্ব বজায় রাখেন। কিন্তু ট্রাম্পের দল এর উল্টো কৌশল নিতে চেয়েছিল।

ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সহব্যবস্থাপক ক্রিস লা সিভিটা বলেন, ‘আমরা পুরোনো ধারণাটাকে উল্টে দিয়েছি।’

এভাবেই আধুনিক সময়ের প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেপ্টেম্বরে ডালাসে দুই দিন ধরে প্রেসিডেন্টকে ঘিরে এই আয়োজন চলে। দলের অনেক সদস্যই এমন আয়োজন চাননি।

সম্মেলনে ট্রাম্প প্রস্তাব দেন, রিপাবলিকানরা জিতলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে পাঁচ হাজার ডলার দেওয়া হবে।

প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক উপদেষ্টা, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার এবং সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাসহ প্রায় কেউই এ প্রস্তাবের কথা জানতেন না।

প্রস্তাবটি নিয়ে কোনো জনমত জরিপও করা হয়নি। একই ধরনের একটি প্রস্তাব পরীক্ষা করে ট্রাম্পের দল আগেই দেখেছিল, এতে ভোটারদের রিপাবলিকানদের দিকে আকৃষ্ট করার তেমন প্রভাব পড়ে না। প্রেসিডেন্টের কয়েকজন উপদেষ্টা এ প্রস্তাবে অস্বস্তি বোধ করেন। তাঁদের একজন একে ভোটারদের ‘ঘুষ’ দেওয়ার প্রকাশ্য চেষ্টা বলে বর্ণনা করেন।

তবে সম্মেলনে একটি ভালো খবরও আসে—‘অর্থ’। প্রথম দিনই ইলন মাস্ক সিনেট লিডারশিপ ফান্ডকে ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেন। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনের মিত্রদের পরিচালিত এই সুপার পিএসি নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সহায়তা করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এককালীন সবচেয়ে বড় অনুদানগুলোর একটি ছিল এটি।

সম্মেলনে প্যাক্সটন ওই তহবিলের কক্ষে যান। সুপার পিএসির নির্বাহী পরিচালক অ্যালেক্স ল্যাচাম তাঁকে কিছুটা রহস্য করে বলেন, ‘আগামীকাল আপনি খুশি হবেন।’

এরপরই বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু হওয়ার কথা ছিল।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সহায়তায় মাস্ক ৪৫ কোটির বেশি ডলার ব্যয় করেন। এর বড় অংশ টেক্সাসে প্যাক্সটনকে জেতাতে খরচ হয়। মাস্কের অর্থায়নে পরিচালিত সুপার পিএসি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী টালারিকোর বিরুদ্ধে কয়েক কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচার করে। এসব বিজ্ঞাপনে ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার নিয়ে টালারিকোর অবস্থানকে আক্রমণ করা হয়। ২০২৪ সালেও ট্রাম্পের দল একই ধরনের প্রচার চালিয়েছিল।

অন্য রাজ্যগুলোতে ট্রান্সজেন্ডারদের নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়ে সিনেট লিডারশিপ ফান্ডের কর্মকর্তা ও ট্রাম্পের দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ট্রাম্পের দল মনে করত, ২০২৬ সালের নির্বাচন মূলত অর্থনীতি নিয়ে। তাই অন্য বিষয় নিয়ে বিজ্ঞাপন দিলে তেমন ফল পাওয়া যাবে না। তবে কিছু রাজ্যে অর্থনীতি নিয়ে বিজ্ঞাপনও ভোটারদের কাছে তেমন কার্যকর হচ্ছিল না বলে মনে করতেন রিপাবলিকান সিনেটের কৌশলবিদেরা।

দলের নেতারাও সিনেট রক্ষার প্রচেষ্টায় একসঙ্গে কাজ করতে পারছিলেন না। ট্রাম্প ও রিপাবলিকান সিনেট নেতাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। তাঁদের মধ্যে জন থুনও ছিলেন। সিনেট নেতাদের আপত্তি সত্ত্বেও ট্রাম্প প্যাক্সটনকে সমর্থন দেন।

২০২৬ সালের মার্চে ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা রিপাবলিকানদের শীর্ষ সুপার পিএসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে ন্যাশনাল রিপাবলিকান সিনেটোরিয়াল কমিটির কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

আগস্টের শেষ দিকে ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেশনাল প্রচারের প্রধান কৌশলবিদ জুলি মার্জ তাঁর দলকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানে তিনি একটি স্লাইড দেখান। তাতে ‘ডেমোক্র্যাটদের বড় জোয়ার’ আসার সম্ভাবনা ৩৫ শতাংশ বলে অনুমান করা হয়েছিল।

জুলি মার্জ বলেছিলেন, ‘আমাদের কাজ হলো যত বেশি সম্ভব মানুষকে ঢেউয়ে চড়ার বোর্ড দেওয়া।’

দলটি ঝুঁকিতে থাকা নিজেদের বর্তমান সদস্যদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী প্রস্তাব দেয়। তাঁদের রক্ষায় কোটি কোটি ডলার ব্যয় না করে সেই অর্থ রিপাবলিকান-সমর্থিত আরও গভীর এলাকাগুলোতে খরচ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে জরিপ করে দেখা হবে, নিজেদের আসনে ওই সদস্যদের অর্থের প্রয়োজন আছে কি না। বেশির ভাগ সদস্য এতে রাজি হন। ফলে নির্বাচনী লড়াই আরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে দিতে প্রায় এক কোটি ডলার পাওয়া যায়।

ডালাসে রিপাবলিকান সম্মেলনের কিছুদিন পর ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

সিনেটে রিপাবলিকানদের অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে অক্টোবরের শুরুর দিকে তারা সাউথ ডাকোটা ও আইডাহোর মতো রাজ্যেও জনমত জরিপ করায়। এর আগে এসব রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা কল্পনাও করা হয়নি।

নির্বাচনের এক মাস আগে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড নর্থ ক্যারোলাইনায় বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করে দেয়। এরপর অর্থ সরিয়ে কানসাসে নেওয়া হয়। পরে তা সাউথ ক্যারোলাইনা এবং শেষ পর্যন্ত মিসিসিপিতে স্থানান্তর করা হয়। দুই বছর আগে ট্রাম্প মিসিসিপিতে প্রায় ২৩ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।

ট্রাম্পের উপদেষ্টারা বৈঠকে ব্যঙ্গ করে রাজ্যটিকে বলতেন, ‘দোদুল্যমান মিসিসিপি।’

প্রতিনিধি পরিষদে পরিস্থিতি সম্ভবত আরও খারাপ ছিল।

একপর্যায়ে কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ড এবং ট্রাম্পের সুপার পিএসির শীর্ষ কর্মকর্তারা টেক্সাসের দক্ষিণাঞ্চলে হেনরি কুয়েলারের আসনটি জেতার চেষ্টা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাঁরা বুঝতে পারেন, বিজ্ঞাপন বন্ধ হওয়ার দিনই স্পিকার মাইক জনসনের ওই এলাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে। জনসনকে বিব্রত হওয়া থেকে বাঁচাতে তাঁরা বিজ্ঞাপন বন্ধের ঘোষণা এক দিন পিছিয়ে দেন। কুয়েলার বড় ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হন।

শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকার চিত্র এতটাই বাঁ দিকে সরে যায় যে, ১০০টির বেশি আসনে জরিপ করেও প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানরা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি। এতে ডেমোক্র্যাটদের কয়েকজন নেতাও অবাক হন।

নির্বাচনের আগে সেপ্টেম্বরে এক নৈশভোজে ২০০৬ সালের নির্বাচনী জোয়ারের সময় প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের প্রচারের দায়িত্বে থাকা রাহম এমানুয়েল দলের নতুন প্রার্থীদের জিজ্ঞাসা করেন, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় ট্রাম্প কত পয়েন্টে জিতেছিলেন।

কেন্টাকির ষষ্ঠ কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাবেক সেনাসদস্য ও সাবেক ফেডারেল কৌঁসুলি জ্যাক ডেম্বো জানান, ট্রাম্প সেখানে ১৫ পয়েন্টে জিতেছিলেন। এ কথা শুনে অবিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর দিকে তাকান এমানুয়েল।

শেষ পর্যন্ত ডেম্বোই জয়ী হন।

নির্বাচনের আগের শেষ রোববার জেফ্রিস একটি প্রতীকী নির্বাচনী এলাকা সফর করেন।

তিনি আলাবামায় যান। সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে ভোটাধিকার আইনের ক্ষমতা কমে যাওয়ার পর রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি শোমারি ফিগার্সের নির্বাচনী এলাকার সীমানা এমনভাবে পরিবর্তন করেছিলেন, যাতে তাঁদের জয়ের সুবিধা হয়।

জেফ্রিস বলেন, সেখানে যাওয়া জরুরি ছিল। কারণ, ‘আফ্রিকান আমেরিকানদের আবার জিম ক্রোর মতো কৌশলের মুখে ফেলার চেষ্টা চলছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, শোমারি ও আমি দুজনেই ইতিহাসের ভার অনুভব করছিলাম। ড. কিং, রোজা পার্কসসহ অনেকের নেতৃত্বে নাগরিক অধিকার আন্দোলন যে জায়গায় শুরু হয়েছিল, সেখানেই আমরা ২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রচার শেষ করছিলাম।’

মঙ্গলবার ফিগার্স নিজের আসনে জয়ী হন।

বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে জেফ্রিস ‘ফ্রিডম মনুমেন্ট স্কাল্পচার পার্কে’ থামেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে দাসত্বের শিকার মানুষের ইতিহাস স্মরণ করা হয়েছে। তাঁর এই যাত্রাবিরতির কথা আগে জানানো হয়নি।

জানুয়ারিতে জেফ্রিস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে যাচ্ছেন।

monir
Admin

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও