লন্ডনে সিলেটি সম্প্রদায়কে অপমান করার অভিযোগ, প্রতিবাদের পরিবর্তে নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

সংগ্রহ
সংগ্রহ
লন্ডন প্রতিনিধিঃ

চ্যানেল এস-এর প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে “মা-কে বিয়ে” সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা; অন্য কোনো অঞ্চলের মানুষ হলে বড় মাপের প্রতিবাদ হতো বলে ক্ষোভ

সংগ্রহ সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল এস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও উপস্থাপক মাহি ফেরদৌস জলিলের একটি বিতর্কিত মন্তব্য লন্ডন এবং বৃহত্তর সিলেট কমিউনিটিতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি লন্ডনে স্থায়ী হতে সিলেটি যুবকদের মানসিকতা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত মন্তব্যটিতে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, লন্ডনে স্থায়ী হওয়ার জন্য সিলেটি ছেলেরা প্রয়োজনে নিজের মাকেও বিয়ে করতে দ্বিধা করে না । এই ধরনের মন্তব্যকে সিলেটি জাতিগোষ্ঠীর সামগ্রিক চরিত্রহননের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন প্রবাসী কমিউনিটি নেতারা।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, রাজপথে বড় কোনো প্রতিবাদ দেখা যায়নি। এতে সাধারণ সিলেটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, অন্য কোনো জেলার মানুষ এমন অপমানজনক কথা বললে সমগ্র সিলেটের মানুষ রাস্তায় নেমে আসত, কিন্তু মাহি ফেরদৌস জলিলের ক্ষেত্রে সেই প্রতিবাদ কোথায়? এই নীরবতা নিয়ে কমিউনিটির একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বেও মাহি ফেরদৌস জলিল হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন, যার জন্য তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল । তাছাড়া একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিভিন্ন সময়ে তিনি সিলেটি ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । সমালোচকদের মতে, বারবার এমন বিতর্কিত মন্তব্য করা সত্ত্বেও তাকে কোনো কঠিন জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হয়নি, যা একটি অসন্তোষের কারণ।

একটি জাতিগোষ্ঠীর সামগ্রিক সম্মান ও মর্যাদা যখন একটি টেলিভিশন চ্যানেলের মতো শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, তখন তার জবাব শুধু ক্ষমা প্রার্থনা বা নীরবতা হতে পারে না। সিলেটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস আত্মত্যাগ, পরিশ্রম এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সমাজ গঠনে গৌরবময় অবদানের ইতিহাস। এই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের ঘৃণ্য ও ভিত্তিহীন অপবাদ আরোপ করা মানে শুধু একটি অঞ্চলের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করা নয়, বরং ইতিহাস ও সত্যকে অস্বীকার করা। যদি কোনো ব্যক্তি বারবার একই সম্প্রদায়কে অপমান করে পারেন এবং তার কোনো শাস্তি না হয়, তাহলে তা প্রমাণ করে যে, এই সমাজে বর্ণবাদ ও আঞ্চলিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা দুর্বল। সিলেটি সম্প্রদায়কে তাদের ন্যায্য সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় এবং এই ধরনের বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এখনই সময়।

monir
Admin

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও