পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
মুক্তিবাণী অনলাইন ডেক্স

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

ঢাকা, গাজীপুর ও টঙ্গীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে অন্তর্ঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। রাজধানীর মিরপুর থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, অবরোধ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার ৩০০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, ঢাকা ও গাজীপুরে শ্রমিকদের সহিংস বিক্ষোভে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজমুল ইসলাম একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রকৃত পোশাক শ্রমিক নন। বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে তাঁরা সাধারণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে অথবা শ্রমিকদের আড়ালে থেকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলেন। গতকাল মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে সহিংসতা এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সাধারণ শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে সরকারি দায়িত্বশীল মহল থেকেও জানানো হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। সরকার, মালিক ও শ্রমিক—এই তিন পক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকের ছদ্মবেশে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারীদের কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ডিবি মিরপুর বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ার পর পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীদের নাশকতায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে তাঁরা মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মিরপুরের পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লা এই নাশকতার মূল সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। ঢাকার বাইরে থেকে নেতাকর্মীদের এনে আন্দোলনে মিশিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, গাজীপুর ও টঙ্গী এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা পোশাক শ্রমিকের ছদ্মবেশে সমাবেশে প্রবেশ করে উসকানি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিরপুর, গাজীপুর ও টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকের ছদ্মবেশে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ শ্রমিকদের পরিচয় ব্যবহার করছেন অথবা তাঁদের আড়ালে থেকে নাশকতা চালাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, এটি একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ।

গতকাল মিরপুর এলাকায় আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ করে সহিংসতা শুরু হলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, পোশাক শ্রমিক পরিচয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ইন্ধন ও উসকানি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

monir
Admin

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও