![]()
তিন বছর পর সিলেট নগরে ফিরেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে গ্রেটার শাহি ঈদগাহ মিনি স্টেডিয়ামের মাঠজুড়ে বসেছে এ মেলা। এতে রয়েছে ১৫টি প্যাভিলিয়ন ও শতাধিক স্টল। মেলাটি শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, সিলেটবাসীর জন্য হয়ে উঠেছে অবসর কাটানোর আনন্দময় আড্ডাস্থলও।
মূল তোরণ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে বাতাসে দোল খাওয়া সাদা কাপড়ের সাজ এবং লতানো ফুলের নান্দনিক আয়োজন। সামনেই রয়েছে ফোয়ারা, এরপর আন্তর্জাতিক প্যাভিলিয়ন। প্রবেশপথেই নজর কাড়ছে ভারতীয় ও পাকিস্তানি জুতার দোকান। নাগরা, কোলাপুরিসহ বিভিন্ন নকশার জুতা পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। অন্যদিকে দেশি ব্র্যান্ডের ছোট-বড় সবার জুতার দাম ২৫০ থেকে ৮৫০ টাকা।
![]()
এর উল্টো পাশে রয়েছে কাশ্মীরি শাল, ব্যাগ, কুশন কভার ও টেবিল রানারের দোকান। এসব স্টলে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় মিলছে কাশ্মীরি শাল। পাশাপাশি শাড়ি ও পোশাকের পসরা সাজিয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে আসা ঢাকাই জামদানি হাউস।
মেলায় ৫৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। কাতান শাড়ির দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা, জর্জেট শাড়ি ২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা এবং জামদানি শাড়ি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৫৫০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের থ্রি-পিসও রয়েছে।
বিশেষভাবে নজর কাড়ছে নারী উদ্যোক্তা জোন। কমলগঞ্জের আদমপুর থেকে আসা জোহরা বেগম তাঁর ৩০ জন কর্মীর হাতে বোনা ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি শাড়ি, শাল, থ্রি-পিস ও বেডশিট নিয়ে অংশ নিয়েছেন মণিপুরি হস্তশিল্পের স্টলে। ছেলেদের পোশাকের স্টলে ৫০০ টাকায় শার্ট, ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় টি-শার্ট এবং ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় শীতের ব্লেজার পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া টি-শার্টে পছন্দমতো ছবি প্রিন্ট করার সুবিধাও রয়েছে।
মেলায় আলাদা আকর্ষণ যোগ করেছে গ্রামের নারীদের হাতে বোনা রঙিন নকশিকাঁথা। এসব কাঁথার দাম ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। মেলামাইন ও সিরামিকের পণ্যের পাশাপাশি নজর কাড়ছে মাটির তৈরি হাঁড়িপাতিল, কড়াই, তাওয়া, চায়ের কাপ ও ডিনার সেট। ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায় কেনা যাচ্ছে মাটির তৈরি ডিনার সেট। এ ছাড়া কাঠের রুটি মেকার, বাঁশ-বেতের কুটিরশিল্প, ঘর সাজানোর শোপিস এবং ইনডোর গাছের নার্সারিও মেলার সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।
কেনাকাটার পাশাপাশি মেলার অন্যতম আকর্ষণ বিনোদন জোন। নাগরদোলা, বিভিন্ন ধরনের দোলনা, বোট রাইড, টয় ট্রেন ও বেলুন শুটিংয়ে মেতে উঠেছে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ। দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করেও এসব রাইডের সামনে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
১৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৩০ টাকা।










