বড়লেখায় চুরির মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, স্বর্ণালংকারসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

মো: জহিরুল ইসলাম

বড়লেখায় চুরির মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, স্বর্ণালংকারসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চুরির মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। অভিযানে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার, দুটি মোবাইল ফোন এবং স্বর্ণ বিক্রির অর্থ হিসেবে শনাক্ত নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, ছয়জনকে গ্রেপ্তার এবং চোরাই স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান।

ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান ২১ অক্টোবর বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে বড়লেখা থানাধীন দক্ষিণভাগ এলাকার বাসিন্দা সিএনজিচালক জসিম উদ্দিন তাঁর অটোরিকশায় গ্যাস নেওয়ার জন্য বসতঘরের দরজায় তালা দিয়ে বাইরে যান। এ সুযোগে অজ্ঞাতনামা চোরেরা ঘরের পেছনের জানালার সিটকিনি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওয়ারড্রপে রাখা তাঁর ভাবির স্বর্ণের গলার হার ও কানের দুল এবং দুটি মোবাইল ফোন—একটি রেডমি স্মার্টফোন ও অন্যটি বাটন ফোন—চুরি করে নিয়ে যায়।

বড়লেখায় চুরির মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, স্বর্ণালংকারসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

এজাহারে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক ওজন তিন ভরি এবং সব চোরাই মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান ও গ্রেপ্তার

মামলা রুজুর পরপরই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং চোরাই মালামাল উদ্ধারে মাঠে নামে বড়লেখা থানা পুলিশের একটি দল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম, এসআই অলিয়ার রহমান, এএসআই নজরুল ইসলাম বাবু ও তাঁদের সঙ্গীয় ফোর্স দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন।

বড়লেখায় চুরির মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, স্বর্ণালংকারসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০ অক্টোবর বড়লেখা থানাধীন দক্ষিণভাগ এলাকা থেকে প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন—

১। জিল্লুর মিয়া (২৬), পিতা আবুল মিয়া, সাং দোহালিয়া, থানা বড়লেখা, জেলা মৌলভীবাজার।

২। মনির হোসেন (৩৩), পিতা মৃত সিরাজ উদ্দিন, সাং আরেঙ্গাবাদ, থানা বড়লেখা, জেলা মৌলভীবাজার।

৩। আব্দুল আহাদ (৪৪), পিতা মৃত সুরুজ আলী, সাং পূর্ব দক্ষিণভাগ, থানা বড়লেখা, জেলা মৌলভীবাজার।

জিল্লুর মিয়া, মনির হোসেন ও আব্দুল আহাদের স্বীকারোক্তি এবং পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পারভেজ আহমদকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ফয়জুর রহমানের ছেলে এবং বড়লেখার দোহালিয়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া দুটি মোবাইল ফোন এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রির অর্থ হিসেবে শনাক্ত নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়।

পারভেজ আহমদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে তাঁর সহযোগী হিসেবে শনাক্ত সুমন আহমদকে (৩৮) জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মৃত রমিজ উদ্দিনের ছেলে এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার হরিরামপুর এলাকার বাসিন্দা।

গ্রেপ্তারকৃত পারভেজ আহমদ ও সুমন আহমদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লালদিঘিরপাড় এলাকার রহমান ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পুষ্পা জুয়েলার্সের ১৩ নম্বর দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাইদুর রহমানকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মো. সমছু মিয়ার ছেলে। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানাধীন গয়াসপুর এবং বর্তমান ঠিকানা পুষ্পা জুয়েলার্স, রহমান ম্যানশন, লালদিঘিরপাড়, সিলেট। তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া দুটি কানের দুল ও একটি গলার হার উদ্ধার করা হয়।

স্বর্ণালংকার উদ্ধার ও পরিমাপ

পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা স্বর্ণালংকার বাদী নিজে শনাক্ত করেন। পরিমাপ করে সেগুলোর মোট ওজন পাওয়া যায় ২ ভরি ১১ আনা ৯ পয়েন্ট।

অপরাধ স্বীকার ও আইনগত ব্যবস্থা

মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।

এ পর্যন্ত অভিযানে চুরি যাওয়া সব মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি মোবাইল ফোন, দুটি কানের দুল, একটি গলার হার এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রির অর্থ হিসেবে শনাক্ত নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ২১ অক্টোবর বিধি অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান আরও জানান, বড়লেখা থানা পুলিশ অপরাধ দমন, চুরি প্রতিরোধ, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে সর্বদা তৎপর রয়েছে। অপরাধসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ৪৫৭/৩৮০ ধারায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ১১।

monir
Admin

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও