![]()
ঢাকা: রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে মৌলভীবাজার সহ দেশের বিভিন্ন জেলার আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে জাসদ কার্যালয় এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে গোপন বৈঠক করছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
![]()
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা খবর পাই, জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে গোপন বৈঠক করছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। তাঁরা যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারেন, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।” অভিযান পুরোপুরি শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, পুলিশের অভিযানকে ঘিরে রাজধানীর গুলিস্তান ও পল্টন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে অন্য একটি দলের নেতাকর্মীদের ‘গোপন বৈঠক’ এবং পুলিশের অভিযানে শতাধিক নেতাকর্মী আটকের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংখ্যালঘু ও বিতর্কিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাসদ কার্যালয় ঘিরে আওয়ামী লীগের এই জমায়েতের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের দাবি, অভিযানটি ‘গোপন বৈঠক’ ভাঙতে চালানো হয়েছে। তবে এর পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনগত ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য না আসা পর্যন্ত প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের এই অভিযান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক হবে, নাকি আরও বিতর্কের জন্ম দেবে—সে প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।









