সিলেটের বড়লেখায় মেয়ের শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে আব্দুর রহমান (৬৮) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। নিহত আব্দুর রহমান বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা আরেঙ্গাবাদ গ্রামের মৃত হাজী ইসরাক আলীর ছেলে।
![]()
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার গল্লাসাঙ্গন গ্রামের ছাতুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার গল্লাসাঙ্গন গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে কাতারপ্রবাসী মুন্না আহমদের সঙ্গে আব্দুর রহমানের এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে। মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গাছ বিক্রির টাকা ও জমিজমা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জামাতা মুন্না আহমদের ভাই ওমর ফারুকের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুর রহমান মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওমর ফারুক তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছে, পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার নামে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। পরিবারের লোকজন অভিযুক্ত ওমর ফারুকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার নামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অভিযুক্ত ওমর ফারুকের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে এমন ঘটনা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।










পাঠকের মন্তব্য