গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে সাংবাদিক মফিজুল ইসলামকে গ্যারেজে আটকে রেখে উলঙ্গ অবস্থায় বেধড়ক মারধরের মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও যুবদল নেতা পরিচয়ধারী রাজীবের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলিতে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
![]()
ঘটনার সূত্রপাত রাজীবের ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর। ওই ভিডিও নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে, সাংবাদিক মফিজুল ইসলামকেও টার্গেট করেন রাজীব। “তথ্য দেওয়ার” অজুহাতে তাকে ডেকে এনে প্রায় তিন ঘণ্টা গ্যারেজে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। অচেতন অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দেওয়া হলে, সহকর্মীদের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি মানসিকভাবে আক্রান্ত।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর হোসেন ঘটনাটিকে “সাংবাদিকতার স্বাধীনতার উপর হামলা” আখ্যা দিয়ে বলেন, “সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলা মানেই সত্যের কণ্ঠ রোধ করা। অপরাধী যেই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।”
সাংবাদিক সমাজ ও সুশীল সমাজ প্রশ্ন তুলেছে : ★ একজন রাজনৈতিক নেতা কীভাবে এতটা স্পর্ধা দেখিয়ে প্রকাশ্যে একজন সাংবাদিককে নির্যাতন করতে পারে?
★ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কেন আগাম ব্যবস্থা নেয়নি?
ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে সাংবাদিক সংগঠনগুলি। এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
প্রতিক্রিয়া ও দাবি: ★ তদন্তের দাবি: সাংবাদিক সংগঠনগুলি ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
★ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
★ রাজনৈতিক দলের জবাবদিহিতা: যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে এই ঘটনায় স্পষ্ট অবস্থান চাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা সাংবাদিকতা পেশার স্বাধীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি গুরুতর উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা সমাজে আরও আলোচনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।













পাঠকের মন্তব্য