![]()
বিএনপির বিরোধিতা করতে গিয়ে ‘জাশি’ (জামায়াত-শিবির)-এর সঙ্গে সখ্য গড়ার খেসারত দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সেকুলার সমাজকে উদ্দেশ করে এ মন্তব্য করেন তিনি।
‘জুলাই-পরবর্তী রাজনীতির আজব দশা’ শিরোনামের ওই স্ট্যাটাসে মাহফুজ আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই সেকুলার সিভিল সোসাইটি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ‘জাশি অ্যান্ড ৭২ আদার্সের’ কাছে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম দেখে এসেছেন তিনি। ক্ষমতার জন্য এবং সংস্কারের নামে বিএনপির বিরোধিতা করতে গিয়ে—যাঁরা আসলে আজীবন কালচারালি লীগ ছিলেন, তাঁদের রুচির সঙ্গে বিএনপি যায় না—জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সখ্য গড়ার আপ্রাণ চেষ্টা দেখেছেন। তাঁর ভাষ্য, সখ্য গড়ার পর অনেকে আর সেখান থেকে বের হতে পারবেন না—এমন আশঙ্কায় অনেকে এখনো জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন।
তিনি লেখেন, ডিজিটাল মবের চাপে অনেককে ডানপন্থা থেকে উগ্র ডানপন্থায় যেতে দেখেছেন। এখনো তা দেখছেন। তাঁর মতে, এসব ডিজিটাল মব মূলত পরিকল্পিত প্রচারণা ও চরিত্রহননের কৌশল। এ কৌশল এড়িয়ে যাওয়ার উপায় শিগগির নেই। দেশ (উগ্র) ডানপন্থার ট্রেনে উঠে গেছে। বিভিন্ন ধারার নরম ও কট্টর ডানপন্থীরা মিলে এটি নিশ্চিত করবে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা আরও লেখেন, সংস্কারের নামে (ক্ষমতার জন্য?) বিএনপির বিরোধিতা করতে গিয়ে জামায়াত-শিবিরের কাছে যাওয়ার খেসারত সেকুলার সমাজকে দিতেই হবে। ঐতিহ্যবাহী আলেম সমাজকেও জামায়াত-শিবিরকে সহায়তা করার মূল্য দিতে হবে। এখানে কেবল জামায়াত-শিবিরেরই লাভ। লাভের গুড় খাওয়ার পর উভয় গোষ্ঠীকেই ছুড়ে ফেলা হবে।
সবশেষে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘গুড টাইম ইজ কামিং ফর জাশি অ্যান্ড ৭২ আদার্স।’ তাঁর ভাষ্য, এই আসন্ন ভবিষ্যৎ বদলানোর সাধ্য আপাতত কারও নেই। জামায়াত-শিবিরের সুসময় যত বাড়বে, আওয়ামী লীগের ফিরে আসা ততই অনিবার্য হয়ে উঠবে। তাঁর মতে, দেশ আবার ১৯৭১ সালের দিকে ফিরে যাচ্ছে। সেখানে বিএনপির একাংশ জামায়াত-শিবিরের দুনিয়ায়, অন্য অংশ আওয়ামী লীগের দুনিয়ায় বাস করবে। আর বাকিরা আপাতত জামায়াত-শিবির প্রযোজিত ‘কালচারাল ওয়ার’ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।









