অ্যাঙ্গোলায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভে কমপক্ষে ২২ জন নিহত (একজন পুলিশসহ) এবং ২০০ জন আহত হয়েছেন। গৃহায়মন্ত্রী ম্যানুয়েল হোমেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাজধানী লুয়ান্ডাসহ দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে চলমান এই সংঘাতে ১,২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মূল ঘটনাপ্রবাহ: - শুরু ট্যাক্সিচালকদের ধর্মঘট দিয়ে: ট্যাক্সিচালকদের জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি বিরোধী ধর্মঘট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়। গত কয়েক বছরে এটিই দেশটির সবচেয়ে বিস্তৃত ও সহিংস প্রতিবাদ।
- রাজধানীতে গোলাগুলি, হাসপাতালে ভয়াবহতা: লুয়ান্ডায় সোম ও মঙ্গলবার স্পোরাডিক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহতদের ভিড়ে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। এক নামবিহীন চিকিৎসকের ভাষ্য, “আমরা মারাত্মক জখম নিয়ে বহু প্রতিবাদকারী পেয়েছি। দুঃখজনকভাবে কেউ কেউ মারা গেছেন। প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়ে বেশি হতে পারে।”
- ব্যাপক লুটপাত ও ধ্বংসযজ্ঞ: সুপারমার্কেট, দোকান, ব্যাংকসহ বহু ভবনে লুটপাত ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- সরকারের অবস্থান: প্রেসিডেন্ট জোয়াও লরেনসোর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকের পর গৃহমন্ত্রী দাবি করেন, লুয়ান্ডা, হুয়াম্বো, বেঙ্গুয়েলা ও হুইলায় “ভ্যান্ডালিজম ও জননিরাপত্তা হুমকি” দেখা দিলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রেসিডেন্সি বলছে, “অপরাধী মনোভাবাপন্ন অনুপ্রবেশকারীদের উপস্থিতিতে প্রতিবাদকারীদের কার্যকলাপ কেবল দাবি আদায়ের চেয়েও বড় হয়ে জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
- জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি কেন?: তেলসমৃদ্ধ অ্যাঙ্গোলায় জুলাইয়ের শুরুতে ডিজেলের দাম ৩৩% এরও বেশি বাড়ানো হয়। জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তকে প্রেসিডেন্ট লরেনসো “অতিরঞ্জিত” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং সিএনএন পর্তুগালকে দিয়েছেন অভিযোগ, প্রতিবাদকারীরা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে “পেট্রোলের দাম” অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করছে।
- ট্যাক্সি ইউনিয়নগুলোর দূরত্ব: তিনদিনের ধর্মঘট ডাকলেও লুটতরাজ ও ধ্বংসযজ্ঞের সাথে ট্যাক্সি ইউনিয়নগুলো নিজেদেরকে দূরে রেখেছে এবং এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে।
- আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: - ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে লুয়ান্ডার একটি লুফথানসা ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার কারণ হিসেবে যাত্রীদের “অ্যাঙ্গোলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি” বলা হয়েছে।
- মার্কিন দূতাবাসসহ কয়েকটি দূতাবাস বিদেশি নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
- রাজধানীতে পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, নাগরিকেরা জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করছেন।
- বিরোধী জোটের অবস্থান: প্যাট্রিয়টিক ইউনাইটেড ফ্রন্ট (এফপিইউ) “অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে জর্জরিত” জনগণের সাথে সংহতি জানালেও প্রতিবাদকারীদের গণ-ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংসের তীব্র নিন্দা করেছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব: জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। ট্যাক্সি ভাড়া বেড়েছে, পাশাপাশি রাস্তা দিয়ে পণ্য পরিবহন ব্যয়বৃদ্ধির কারণে খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এই বাড়তি ব্যয় সরাসরি ভোক্তাদের উপরই চাপাচ্ছেন সরবরাহকারীরা।
পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত: লুয়ান্ডাসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক পুলিশ ও সেনা উপস্থিতি নজরদারি চালাচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটতে এখনও সময় লাগতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।










পাঠকের মন্তব্য