প্রবাসে থেকেও একাধিক মামলা ও হত্যার হুমকির শিকার ছাত্রদল নেতা শফিকুর রহমান।

ছবি সংগ্রহ
ছবি সংগ্রহ
ডেক্স রিপোর্টঃ

০১ ডিসেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন শুধু দেশ নয়, বিদেশেও তাড়া করছে সিলেট পলিটেকনিক ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সিলেট মহানগর ছাত্রদল নেতা শফিকুর রহমানকে। যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা এই নেতা, যিনি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির একজন শক্তিশালী সংগঠক, বর্তমানে দেশ থেকে দায়ের হওয়া একাধিক রাজনৈতিক মামলা ও হত্যার চেষ্টা এবং হুমকি নিয়ে দেশ থেকে প্রবাসে পালিয়ে আছেন।

ছবি সংগ্রহ

যুক্তরাজ্যে থাকা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এসব মামলা শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ। দেশের অভ্যন্তরে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের হীন ষড়যন্ত্রের ফলস্বরূপ তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন—

“এগুলো সবই রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আমার দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলস্বরূপ আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশে থাকতেই তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতে কয়েকবার হামলা করেছিল এবং এখন তারা আমাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করছে। তাই আমি বাঁচতে বিদেশে পালিয়ে এসেছি।”

শফিকুর রহমানের অভিযোগ, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে পুলিশ বারবার অভিযান চালিয়েছে। পুলিশ তাকে না পেয়ে তার মা–বাবার সাথে খারাপ আচরণ করেছে এবং তাদের হুমকি দিয়েছে। এ কারণে তার পরিবার বর্তমানে গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

শফিকুর রহমানের বাবা–মা বলেন—“পুলিশ প্রায়ই আমাদের বাড়িতে এসে শফিকুরকে খুঁজে এবং তাকে না পেয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। তাছাড়াও কিছু রাজনৈতিক সন্ত্রাসীও কখনো কখনো শফিকুর রহমানকে খুঁজেতে আমাদের বাড়িতে আসে এবং প্রকাশ্যেই তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।”

এ ব্যাপারে শফিকুর রহমানের আইনজীবী, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন (বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সদস্য), জানান যে শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দেশে একাধিক গুরুতর মামলা চলমান রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

তিনি জানান—“শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বর্তমানে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা মূলত বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা হয়েছে।”

গুরুত্বপূর্ণ মামলা সমূহ: ১. এস.এম.পি. কোতোয়ালি মডেল থানা মামলা নং: ২৬, তারিখ: ১৩-১২-২০২৪, জি.আর. মামলা নং ৫৬৩/২০২৪, এবং ধারা: বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮ এর ৩/৪ ধারা; সহ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৪৩/১৪৯/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৪ ধারা।

২. এস.এম.পি. কোতোয়ালি মডেল থানা মামলা নং: ৩৪, তারিখ: ২৭-১০-২০২৪, জি.আর. মামলা নং ৪৭৩/২০২৪, এবং ধারা: বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮ এর ৩/৪ ধারা; সহ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১০৯/১১৪ ধারা।

৩. কোতোয়ালি সি.আর. মামলা নং- ১৬১৭/২০২৪, তারিখ: ১০/১২/২০২৪, ধারা: বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮ এর ৩/৪ ধারা, সহ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারা।

৪. কোতোয়ালি সি.আর. মামলা নং ০৮/২০২৫, তারিখ: ০১/০১/২০২৫, ধারা: বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮ এর ৩/৪ ধারা; সহ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১০৯/১১৪ ধারা।

আইনজীবী আরও বলেন—“এই মামলাগুলোর কারণে শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং তার জামিন পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। মামলার বেশিরভাগ আসামি পলাতক এবং বিদেশে অবস্থান করছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি তার নিরাপদ জীবন কামনা করি।”

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা ও সুনামগঞ্জ–২ (দিরাই–শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহবুব চৌধুরী বলেন—“শফিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ভুগছেন। তাকে দেশ থাকতেই বহুবার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সে প্রাণে বাঁচতে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। আমার মতে, এখন তাকে দেশে ফিরে আসাটা মোটেও নিরাপদ নয়, বরং তাকে হত্যা করা হতে পারে।”

শফিকুর রহমানের মামলাগুলোর অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (৫৫) – মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল (৫৫) – সাবেক সংসদ সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, নাসির উদ্দিন খাঁন – চেয়ারম্যান, সিলেট জেলা পরিষদ ও সাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ, জাকির হোসেন (৫৮) – সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ, বিজিত চৌধুরী (৫৮) – সহ–সভাপতি, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ, বিধান কুমার সাহা (৫৫) – যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ, আজাদুর রহমান আজাদ (৫০/৫৫) – কাউন্সিলর, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, আফতাব হোসেন খান (৫০) – সাবেক কাউন্সিলর, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, তৌফিক বক্স লিপন (৫২) – কাউন্সিলর, সিলেট সিটি কর্পোরেশ, মো. আশিক আহমদ (৫০) – সাবেক কাউন্সিলর, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা, ঝলক আহমেদ (৫৫) – সাবেক কাউন্সিলর, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা, আব্দুর রহমান জামিল (৫০) – প্রচার সম্পাদক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ, শামীম আহমদ (৫৫) – সভাপতি, সিলেট জেলা যুবলীগ, শামীম (৫২) – সাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা যুবলীগ, আলম খাঁন মুক্তি (৪৫/৫৫) – সভাপতি, সিলেট মহানগর যুবলীগ, এম. ইলিয়াছুর রহমান দিনার (৪১) – সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট মহানগর যুবলীগ, নাজমুল ইসলাম (৩৬) – সভাপতি, সিলেট জেলা ছাত্রলীগ, রাহেল সিরাজ (৩২) – সাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা ছাত্রলীগ, কিশোরায়ন জাহান সৌরভ (৩০) – সভাপতি, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ, নাঈম আহমদ (৩১) – সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ, আফছর আজিজ (৫০/৫২) – সভাপতি, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, দীন মোহাম্মদ ফয়সল (৫০) – সহ–সভাপতি, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, পিয়ুষ কান্তি দে (৪৫) – সহ–সভাপতি, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কয়েছ আহমদ (৫৪) – সভাপতি, ২৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, মোঃ বদরুল ইসলাম (৩৫) – সাবেক মেয়রের এপিএস, মহানগর যুবলীগ, শমসের জামাল (৫৫) – আওয়ামী লীগ নেতা, দেবাশীষ গোয়ালা (২৭) – সাধারণ সম্পাদক, সিলেট সদর উপজেলা ছাত্রলীগ, বর্তমানে তাদের অধিকাংশই দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন।

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

ভিডিও