![]()
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘ভারতের জন্য লজ্জা’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ‘ককরোচ’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ভারত এর আগে এত বড় ‘কাপুরুষ ও ভীতিপ্রদর্শনকারী’ কাউকে দেখেনি। ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের প্রস্তুতির সময় আটক হওয়ার এক দিন পর, রোববার (১১ অক্টোবর) মুক্তি পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতজুড়ে বিরোধীদের আন্দোলন চলছে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবি ছিল ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ।
![]()
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার আটক হওয়ার পর রোববার শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান অভিজিৎ দীপকে। মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য লজ্জা।’ একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশ এর আগে এত বড় কাপুরুষ ও ভীতিপ্রদর্শনকারী কাউকে দেখেনি।’
ভোটার তালিকায় বিতর্কিত সংশোধনের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভের আগে শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা দীপকেকে আটক করা হয়। আন্দোলনটির আরও দুই নেতাকেও আটক করা হয়েছিল। তাঁদের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ ঠেকাতেই তাঁদের আটক করা হয়।
সিজেপির দাবি, শনিবারের নির্ধারিত বিক্ষোভের আগে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। তবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
এদিকে আন্দোলন দমনে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে মোদি সরকার। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ায় সংখ্যালঘুদের ওপর অসম প্রভাব পড়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভারতের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য ছিল একই ব্যক্তির একাধিক নাম, মৃত ব্যক্তিদের নাম এবং জাল বা প্রতারণামূলক নিবন্ধন বাদ দেওয়া। তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘুরা, বিশেষ করে মুসলিমরা, তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এর রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
শনিবার মুম্বাই থেকে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও আন্দোলনটির আরও দুই নেতাকে আটক করা হয়। জানা গেছে, তাঁরা উড়োজাহাজ থেকে নামার আগেই আটক হন।
রোববার সিজেপির প্রধান আইনজীবী রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে দীপকে ও অন্যদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী এক বছর ‘শান্তি বিঘ্নিত না করার’ শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বার্তাসংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, সাদা শার্ট পরা দীপকেকে আদালত থেকে বের হওয়ার পরপরই একটি কালো গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তির পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি ও তাঁর প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
এদিকে নিজ বাড়ি থেকে আটক হওয়া আন্দোলনকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি ধ্রুব রাঠিও মুক্তি পেয়েছেন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও ককরোচ জনতা পার্টি দমন-পীড়নের মধ্যেও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।









