জুলাই সনদ বাস্তবায়নে মৌলভীবাজারে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ (ভিডিও সহ)

বিশেষ প্রতিনিধি

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট।

ছবি মুক্তিবাণী

রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় শহরের দেওয়ানী মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে এম সাইফুর রহমান রোড দিয়ে কুসুমবাগ পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ১১ দলীয় জোটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

ছবি মুক্তিবাণী

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার জেলার ১১ দলীয় ঐক্যজোটের জেলা সমন্বয়ক ও জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার এম শাহেদ আলী। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক জনাব খালেদ হাসান, জেলা জামায়াত সেক্রেটারি মোঃ ইয়ামীর আলী, এনসিপি মৌলভীবাজারের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া, জেলা সেক্রেটারি রুহুল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সহসভাপতি মাওলানা আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হিফজুর রহমান হেলাল, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইসলাম উদ্দীন, মাওলানা রহমত আলী, শহর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা লুৎফর রহমান কামালী, সদর থানা সভাপতি মাওলানা ইসমাঈল আলী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শেখ সাদী, রাজনগর থানা সাধারণ সম্পাদক মুফতি রুহুল আমীন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াহিদ, জেলা জামায়াত সহকারী সেক্রেটারি মোঃ আলাউদ্দিন শাহ, পৌর আমির হাফেজ তাজুল ইসলাম ও সদর উপজেলা আমির মোঃ ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

ছবি মুক্তিবাণী

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নির্বাচনের দুই মাস পরই দাবি আদায়ের জন্য আবারও রাস্তায় নামতে হয়েছে, এটাই বাস্তবতা। ২৪-এর গণ-আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি সুন্দর, স্বাধীন, সমৃদ্ধশালী ও পরিবর্তনশীল বাংলাদেশ। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি, জুলাইকে পুঁজি করে নির্বাচনের সময় জুলাইয়ের সাফাই গেয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর অত্যন্ত নির্লজ্জ ও পরিকল্পিতভাবে আবারও ফ্যাসিবাদের পথে পদচারণা শুরু করেছে বর্তমান সরকার।

সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী বলেন, আজ বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সংসদের মধ্যে জুলাই সনদের আইনি রূপ দেওয়ার জন্য গণভোটকে স্বীকৃতি দিয়ে অবিলম্বে তা কার্যকর করার জোর দাবি উত্থাপন করেছেন। এই দাবিকে উপেক্ষা করে ৭০ ভাগ মানুষের ভোটাধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনায় পা বাড়াচ্ছে বর্তমান সরকার।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু রয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম স্বাধীন বিচারব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারবো। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, অতীতের কায়দায় বিচার ব্যবস্থার ওপর সরকারের পক্ষ থেকে আধিপত্য বিস্তার করে পূর্বের কায়দায় বিচার বিভাগকে কলুষিত করার পদচারণা তারা শুরু করেছে।

সমাবেশের বক্তারা আরও বলেন, জুলাই সনদ শুধু একটি দলিল নয়, এটি গণঅভ্যুত্থানের আত্মা ও শহীদদের রক্তের ঋণ। এই সনদ বাস্তবায়নে যত বিলম্ব হবে, ততই ফ্যাসিবাদী চক্র তাদের বিষদাঁত বিস্তার করবে। বক্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইতিহাস বারবার সাক্ষী—যারা জনতার দাবি পদদলিত করে, তাদের পরিণাম হয় কঠিন। তারা সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আর দেরি নয়; তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আরও তীব্র আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে সরকারকে। জনতা ক্ষোভে ফুঁসছে, আর সেই আগুন যেকোনো সময় প্রজ্জ্বলিত হতে পারে—এবার তারা কোনো ফাঁকিবাজি সহ্য করবে না।

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও