![]()
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে। দলটি সর্বশক্তি দিয়ে সবার জন্য সমান আইন নিশ্চিত করবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা বহু বছর আন্দোলন করেছেন। তাঁর ভাষ্য, স্বৈরাচার গত ১৭ বছর দেশের মানুষের টুঁটি চেপে ধরে রেখেছিল। তাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, কথা বলতে দেওয়া হয়নি। মানুষের কষ্ট-দুর্দশা দূর করা হয়নি, সেসব কথা শুনতেও চাওয়া হয়নি।
![]()
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। বিএনপি সেই দায়িত্ব পেয়ে সর্বশক্তি দিয়ে সবার জন্য সমান আইন নিশ্চিত করবে এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। বিগত ১৭ বছরে কীভাবে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল, তা তাঁরা দেখেছেন। সেই পরিস্থিতি বদলে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান তাঁরা।
তিনি আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর কাজে বিঘ্ন ঘটলে ক্ষতি দেশের মানুষেরই হবে, বিদেশিদের নয়।
বক্তব্যে কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী ‘রাজনৈতিক দল’ ও ‘গুপ্তদল’ শব্দ ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এই রাজনৈতিক দল—যারা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে—১৯৭১ সালে তাদের কী ভূমিকা ছিল। মনে আছে আপনাদের? আমরা দেখেছি, তারা সেই সময় কীভাবে বিভিন্ন অন্যায় করেছিল, কীভাবে মা-বোনদের হয়রানি করেছিল, মা-বোনদের ওপর নির্যাতন করেছিল। যেভাবে তারা মা-বোনদের ওপর নির্যাতন করেছিল, ঠিক একইভাবে আমরা দেখছি আবার তাদের সেই নারী নির্যাতন শুরু হয়েছে। আমরা দেখছি, এই গুপ্তবাহিনীর কিছু সদস্য কীভাবে নারীদের ওপর নির্যাতন করছে এবং শুধু নির্যাতন করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। তদন্ত চলছে। যে বিষয়টি তদন্তাধীন, সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু মানুষ বলে, শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি। একটি মানুষের জীবনাবসান করে দিয়েছে তারা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি দেখেছেন, সেই গুপ্তদলের নেতারা তাঁদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। ‘আজকে এখানে হাজারো লক্ষ মানুষের সামনে আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, দয়া করে নিজের ঘরের দিকে আগে তাকান। নিজের ঘরের লোকেরা কীভাবে নারী নির্যাতন করছে, সেটি আগে সামাল দেন, তারপর অন্যকে কিছু বলতে আসেন।’
এর আগে কর্মসূচির শুরুতে ফেনীর উত্তরাঞ্চলে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরশুরামের কর্মসূচির পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এরপর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।









