হবিগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ কর্তৃক মৌলভীবাজার জেলাকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপপ্রয়াসী হুমকির তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়ায় ফুঁসে উঠেছে মৌলভীবাজারবাসী। গত ৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ উত্তেজনা রোববার একটি গণঅবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তীব্র রূপ নেয়।
মৌলভীবাজার শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত এ গণঅবস্থানে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, অটোরিকশা চালক সমিতিসহ সর্বস্তরের মানুষ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা হুমকিদাতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তোলেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিবহন শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম রসিক, জেলা অটোরিকশা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম, কুলাউড়া বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম আনছার, মৌলভীবাজার জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব, জেলা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ তোয়েল ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার মিয়া প্রমুখ।
ঘটনার পটভূমি: গত ১ নভেম্বর মৌলভীবাজারেশ্রীমঙ্গল–মৌলভীবাজার–সিলেট রুটে বিরতিহীন বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন সাবেক এমপি এম নাসের রহমান। ওই দিন হবিগঞ্জ-সিলেট রোডে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। অনুষ্ঠানে সাবেক এমপি হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে ফিটনেসবিহীন পুরনো গাড়ি চলাচল বন্ধের আহ্বান জানান। তাঁর এই মন্তব্যের জেরে হবিগঞ্জ মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল এক সংবাদ সম্মেলনে মৌলভীবাজারকে “বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার” অগ্রহণযোগ্য ও উস্কানিমূলক হুমকি দেন।
নেতাদের বক্তব্য: গণঅবস্থানেজেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন বলেন, “মৌলভীবাজারবাসী ঐতিহ্যগতভাবে সম্প্রীতির মানুষ। কাঁদা ছুঁড়লে আমরা জিজ্ঞেস করি, আপনার হাতে ব্যথা পেয়েছেন কিনা। এটাই আমাদের সংস্কৃতি, এটাই ধৈর্য। আমরা হানাহানি মুক্ত, শান্তিপ্রিয় মানুষ। কেউ কাউকে বিচ্ছিন্ন করবে না, কাউকেই আন্ডারমাইনও করবে না।” তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক পোস্টের প্রতিও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আইন অনুযায়ী হবিগঞ্জের গাড়ি মৌলভীবাজারে যাবে, মৌলভীবাজারের গাড়ি হবিগঞ্জে যাবে—এটাই নিয়ম। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। উত্তেজনা নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমাধান হবে।” তিনি মৌলভীবাজারবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
সমাধানের পথ: পরিস্থিতিশান্ত করতে হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জি কে গউছ মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপনের সাথে যোগাযোগ করেন। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানানো হয় এবং এ ভিত্তিতে সকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
বক্তারা একসঙ্গে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন যে, “মৌলভীবাজারকে হুমকি দেওয়া মানেই বাংলাদেশের ঐক্যে আঘাত। এমন উসকানি আর সহ্য করা হবে না।” তবে তারা আলোচনার মাধ্যমেই সামাধানের পক্ষে মত দেন এবং শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তাই ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।













পাঠকের মন্তব্য