এসআইআর ঘিরে বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে, বাদ পড়া ভোটার ফেরাতে কমিশনের উদ্যোগ

এসআইআর ঘিরে বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে, বাদ পড়া ভোটার ফেরাতে কমিশনের উদ্যোগ
এসআইআর ঘিরে বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে, বাদ পড়া ভোটার ফেরাতে কমিশনের উদ্যোগ
মুক্তিবাণী অনলাইন ডেক্স

এসআইআর ঘিরে বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে, বাদ পড়া ভোটার ফেরাতে কমিশনের উদ্যোগ

বাদ পড়া ভোটারদের ফেরাতে কমিশনের বিশেষ উদ্যোগ

ভারতের দিল্লিতে সাত শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটকের একদিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার মুম্বাইয়ে বড় সমাবেশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দিল্লির পাশাপাশি আরও কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে অনুষ্ঠিত সমাবেশের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে নতুন আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটির নেতা অভিজিৎ দিপকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, এসআইআরের মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এ কারণে কমিশনের জবাবদিহি প্রয়োজন।

দিল্লিতে অবশ্য পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। গান্ধী জয়ন্তীর দিন যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপরও আম আদমি পার্টি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের কর্মীরা সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সাত শতাধিক মানুষকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ ও সঞ্জয় সিং, বামপন্থি নেত্রী বৃন্দা কারাত এবং অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও ছিলেন।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ১২ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে মধ্য দিল্লির ১২টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

দিল্লির বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে। ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের কমিশনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ।

তবে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কমিশন নতুন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এসআইআর শেষ হওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলোর প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেও বিষয়টি জানানো হয়।

এ ছাড়া এসআইআর শেষ হওয়া রাজ্যগুলোতে অনলাইনে ভোটার হওয়ার ফর্ম-৬ থেকে এসআইআর-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ঘোষণাটিও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। আগে ওই ফর্মে নতুন আবেদনকারীর সঙ্গে তার বাবা-মা বা দাদা-দাদির আগের ভোটার তালিকায় থাকার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছিল।

এই বিতর্ক আরও জোরালো হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি—গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য পরে বলা হয়েছে, এসআইআরসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আন্দোলন দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রয়টার্স জানিয়েছে, গোয়া, কলকাতা ও বেঙ্গালুরুসহ আরও কয়েকটি শহরে কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দিকে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

ফলে দিল্লিতে সাত শতাধিক আটকের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নাগরিক বিতর্কের দিকে এগোচ্ছে। একই সময়ে কমিশনের নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগও পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

তথ্য সূত্র-ই

মুক্তিবাণী

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও